সিএনএনের প্রতিবেদন

হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে ইরান

ইরান যুদ্ধের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠা প্রণালিতে নিজেদের অবস্থান হারাচ্ছে ইরান। বুধবার (১৯ আগস্ট) সিএনএনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ টহল বৃদ্ধি পাওয়ার পর থেকে সামরিক দিক দিয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং তেহরান ক্রমান্বয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের সামর্থ্য ও নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে।

জাহাজের গতিপথ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কেপলারের তথ্যমতে, গত দুই সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারাপার হওয়া শতকরা ৮০ ভাগের বেশি জলযান ওমানি রুট ব্যবহার করেছে। জাতিসংঘের অনুমোদিত এই পথটির ঘোর বিরোধিতা করলেও মার্কিন নৌবাহিনীর সুরক্ষার আশ্বাসে বেশিরভাগ জাহাজই ইরানের দাবি উপেক্ষা করে এই পথ বেছে নিচ্ছে। কেপলারের ক্রুড অয়েল অ্যানালিসিস প্রধান হোমায়ুন ফালাকশাহী নিশ্চিত করেছেন যে ইরান এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই হারিয়েছে।

এক মাস আগেও ওমানি রুটে জাহাজ চলাচলের হার ছিল প্রায় শূন্য। রুট পরিবর্তনের ফলে বসন্তকালের মতো জাহাজ থেকে টোল আদায় করার সামর্থ্যও হারিয়েছে ইরান। পিকারিং এনার্জি পার্টনার্সের প্রতিষ্ঠাকর্তা ড্যান পিকারিং জানান, মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশই ইরানকে টোল দিতে ইচ্ছুক নয়, যার ফলে ওমানি রুটই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে।

লিপো ওয়েল অ্যাসোসিয়েটসের প্রধান অ্যান্ডি লিপো জানান, কুয়েত, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত বড় বড় তেলবাহী ট্যাংকার ভাড়া করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করাচ্ছে এবং বিপজ্জনক অঞ্চল পার করার পর অন্য জাহাজে তেল পাঠাচ্ছে। হামলা থেকে বাঁচতে এসব জাহাজ ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ রাখলেও মার্কিন নৌবাহিনী প্রতিটি জাহাজের গতিবিধি তদারকি করছে।

মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, সম্প্রতি প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবহন করা হচ্ছে, যা যুদ্ধপূর্ব সময়ের ২০ মিলিয়ন ব্যারেলের বেশ কাছাকাছি। 

যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি করেছেন, বাস্তবচিত্রে কোনো পক্ষই একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়েই ওমান ও ইরান জলপথে মুক্ত চলাচলের বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: সিএনএন