বিএনপির সংসদ সদস্যের ওপর হামলা

বিবাদী বলছে মামলা 'ভিত্তিহীন': বাদীর দাবি, কেউ নিরপরাধ নয়

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) ভবন নির্মাণের স্থান নির্ধারণ নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আয়নুল হকের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলাটিকে 'ভিত্তিহীন' দাবি করে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন মাজকর্মী মো. নাজমুছ সাকিব।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রায়গঞ্জ পৌরসভার এসএস কমপ্লেক্স মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন স্থানীয় সমাজকর্মী মো. নাজমুছ সাকিব। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নাজমুছ সাকিব বলেন, টিটিসি ভবনের স্থান নির্বাচন নিয়ে সংসদ সদস্যের সঙ্গে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই ঘটনার আগে ও পরে ফয়সাল বিশ্বাস নামের এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক এবং অশালীন বক্তব্য ছড়িয়ে এলাকার পরিবেশ উত্তপ্ত করে তোলেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার পর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক উপজেলা আহ্বায়ক শ্রাবণ সরকার ও তমাল সরকারসহ মোট ১৫ জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় সম্পূর্ণ নিরপরাধ ব্যক্তিদের জড়ানো হয়েছে দাবি করে তিনি অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আসল ঘটনা উদঘাটন এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানি বন্ধের জোর দাবি জানান।

মামলাটি দ্রুত প্রত্যাহার কিংবা আইনি প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠুভাবে নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হকের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন নাজমুছ সাকিব। পাশাপাশি তিনি প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।

এ সময় তিনি বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা কোনো ধরনের সংঘাত চান না; বরং একটি শান্তিপূর্ণ, স্থায়ী ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধানই তাদের প্রত্যাশা। সেই সঙ্গে উপজেলা সদরের বাসিন্দাদের প্রাণের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে টিটিসি ভবনটি রায়গঞ্জ উপজেলা সদরেই স্থাপনের কার্যকর উদ্যোগ নিতে সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

এ বিষয়ে মামলার বাদী চান্দাইকোণা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি খন্দকার শামীমুল হাসান জানান, তারাও চান ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং কেবল প্রকৃত অপরাধীরাই শাস্তি পাক, কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন অযথা হয়রানির শিকার না হন। ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে কাউকে এই মামলায় আসামি করা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হক জানান, এই ঘটনায় যেন কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে অহেতুক হয়রানি না করা হয়, সে ব্যাপারে ইতোমধ্যে প্রশাসনকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।