অধিনায়ক জেতালেন লঙ্কানদের

চতুর্থ ইনিংসে ২৬৮ রান তাড়া করে জয়টা সহজ ব্যাপার নয়। গল টেস্টে সেই কঠিন কাজটাই বেশ সহজ করে করলো স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। তারা জিতে গেল ছয় উইকেটের বড় ব্যবধানে। জয়ের নায়ক স্বয়ং অধিনায়ক দ্বিমুথ করুণারত্নে। তার ১২২ রানের ইনিংসের সুবাদেই জয়টা সহজ হয়ে যায় দলটির।

দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে এখন ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে করুণারত্নের দল। চণ্ডিকা হাতুরুসিংহেকে দায়িত্বের বাইরে রাখার পর ভারপ্রাপ্ত কোচ রুমেশ রত্নায়েকের তত্ত্বাবধানে প্রথম টেস্টই জিতল শ্রীলঙ্কা। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে, কলম্বোর পি সারা ওভালে।

লঙ্কানদের বড়ো জয়ে বিশ্বকাপের রানারআপ নিউজিল্যান্ড দলের স্বপ্ন ভঙ্গ ছিল। রেটিং পয়েন্টে আর দুই ধাপ এগোলেই টেস্ট র্যাংকিংয়ের শীর্ষে উঠে যেত কেন উইলিয়ামসনের দল। বর্তমানে এই সংস্করণের শীর্ষ দল ভারত। তাদের রেটিং পয়েন্ট ১১৩। তার চেয়ে দুই পয়েন্ট কম, মানে ১১১ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে ব্ল্যাকক্যাপরা। শ্রীলঙ্কাকে হোয়াইটওয়াশ করলেই কেবল ভারতকে টপকাতে পারত নিউজিল্যান্ড। কিন্তু, প্রথম টেস্ট হেরে যাওয়ায় সেটা আপাতত আর হচ্ছে না।

গলে প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে নিউজিল্যান্ড। এবার দৃশ্যপটে লাসিথ আম্বুলদানিয়ে ও ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা। সফরকারীরা অল আউট ২৮৫ রানে। আম্বুলদানিয়ে নেন ৪ উইকেট। ধনঞ্জয়া নেন তিনটি উইকেট। উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান ব্রায়ান জেমস ওয়াটলিং করেন ৭৭ রান।

ফলে টেস্টটি জিততে লঙ্কানদের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৮ রান। করুণারত্নের ও লাহিরু থিরিমান্নের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে এই লক্ষ্য সহজেই ছুঁয়ে ফেলে স্বাগতিকরা। এই ইনিংসে ওপেনিং জুটিতেই ১৬১ রান পায় শ্রীলঙ্কা। চতুর্থ দিনের শেষেই বিনা উইকেটে ১৩৩ রান তুলে ফেলেছিল শ্রীলঙ্কা। শেষ দিন ১০ উইকেট হাতে নিয়ে দরকার ছিল ১৩৫ রানের।

থিরিমানে ব্যক্তিগত ৬৪ রানে আউট হলে ভাঙে এই জুটি। অন্যপ্রান্তে অবশ্য করুণারত্নে ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরি পূর্ণ করে মাঠ ছাড়েন। তার ১২২ রানের ইনিংসে ছিল একটি ছক্কা ও ছয়টি চার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

নিউজিল্যান্ড প্রথম ইনিংস: ২৪৯ অলআউট ও দ্বিতীয় ইনিংস ২৮৫ অলআউট

শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংস: ২৬৭ ও দ্বিতীয় ইনিংস: (লক্ষ্য ২৬৮, আগের দিন ১৩৩/০) ৮৬.১ ওভারে ২৬৮/৪ (করুণারত্নে ১২২, থিরিমান্নে ৬৪, মেন্ডিস ১০, ম্যাথিউস ২৮*, পেরেরা ২৩, ধনাঞ্জয়া ১৪*; বোল্ট ৯.১-১-৩৪-১, সাউদি ১২-২-৩৩-১, সমারভিল ৩১-৬-৭৩-১, আজাজ ১৮-০-৭৪-১, স্যান্টনার ১৩-২-৩৮-০, উইলিয়ামসন ৩-০-৯-০)।

ফলাফল: শ্রীলঙ্কা ৬ উইকেটে জয়ী

সিরিজ: ২ ম্যাচের সিরিজে শ্রীলঙ্কা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে। ম্যাচ সেরা: দ্বিমুথ করুণারত্নে (শ্রীলঙ্কা)।