শিশু-কিশোরীদের সুরক্ষায় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের আহ্বান

কক্সবাজারে যৌন নিপীড়ন ও শোষণ প্রতিরোধ (পিএসইএ), সেফগার্ডিং এবং সর্বস্তরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি বিষয়ে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় শিশু ও নারী সুরক্ষা নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বুধবার (১৯ আগস্ট) কক্সবাজারের কলাতলীর গ্রেস কক্স স্মার্ট হোটেলে এ কর্মশালার আয়োজন করে জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট। ইউনিসেফের সহায়তায় পরিচালিত স্বপ্নের সারথি প্রকল্পের সি-শোর গার্লস এমপাওয়ারমেন্ট ইনিশিয়েটিভের আওতায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় কক্সবাজার জেলার সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও তরুণ প্রতিনিধিসহ মোট ৫০ জন অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক বিভাগের ২৭ জন, সমাজসেবা বিভাগের ৭ জন, খেলাধুলাভিত্তিক সংগঠনের ৫ জন এবং একটি এনজিওর একজনসহ মোট ৪০ জন অংশীজন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ছিলেন। বাকি ১০ জন ছিলেন জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের কর্মকর্তা ও কর্মী।

কর্মশালায় পিএসইএ ও সেফগার্ডিং বিষয়ে আলোচনা করেন জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের পিপল অ্যান্ড কালচার বিভাগের প্রধান ফারহানা আজিজ। তিনি নিরাপদ আচরণ, প্রতিরোধ, অভিযোগ ও রিপোর্টিং ব্যবস্থা এবং তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আলোচনা করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশন বিভাগের প্রধান ইফতিখার-উল-করিম। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সমান সুযোগ, মর্যাদা ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় প্রতিবন্ধী কিশোরী ও তরুণ নারীদের সুরক্ষা এবং সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতার বিষয়টিও উঠে আসে।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল আওয়াল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সমাজসেবা বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের চাইল্ড রাইটস অফিসার মো. কামরুল হাসান কক্সবাজারে পিএসইএ বিষয়ে চলমান ভালো চর্চাগুলো তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের পিয়ার লিডার জয় দে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, শিশু ও কিশোরীদের সুরক্ষায় কার্যকর ফল পেতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

কর্মশালায় ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ, অভিযোগ ও রিপোর্টিং ব্যবস্থা, রেফারেল প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের ভূমিকা নিয়ে দলগত আলোচনা হয়।

কর্মশালার শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে পিএসইএ ও সেফগার্ডিং নীতি মেনে চলা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার করেন।