উৎসবের আমেজে পোলাওয়ের জুড়ি মেলা ভার। আর সেই পোলাও যদি হয় নরম পনির, সুগন্ধি মসলা, ঘি আর বাসমতি চালের যুগলবন্দিতে তৈরি ‘পনির পোলাও’, তবে তো কথাই নেই। ঝরঝরে চালের সাথে মসলাদার ভাজা পনিরের এই যুগান্তকারী পদটি রান্না করা যেমন সহজ, স্বাদও তেমন মুখে লেগে থাকার মতো। অতিথি আপ্যায়ন কিংবা দুপুরের আহারে ভিন্নতা আনতে গরম গরম পনির পোলাও হতে পারে আপনার সেরা পছন্দ।
যেভাবে তৈরি করবেন: পনির পোলাও রান্নার শুরুতেই ২ কাপ বাসমতি চাল ভালোভাবে ধুয়ে ২০ থেকে ৩০ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর চালের পানি ঝরিয়ে আলাদা করে রাখুন।
এদিকে ২৫০ গ্রাম পনির মাঝারি আকারের টুকরো করে কেটে সামান্য তেলে হালকা সোনালি করে ভেজে তুলে রাখুন। এবার একটি পাত্রে ২ টেবিল চামচ ঘি ও ১ টেবিল চামচ তেল গরম করুন। এতে একটি তেজপাতা, দুটি দারুচিনির টুকরো, তিনটি এলাচ, তিন থেকে চারটি লবঙ্গ এবং আধা চা চামচ জিরা দিয়ে কিছুক্ষণ ভাজুন। মসলা থেকে সুন্দর গন্ধ বের হলে দুটি পাতলা করে কাটা পেঁয়াজ দিয়ে হালকা বাদামি হওয়া পর্যন্ত ভাজতে হবে।
এরপর এতে এক চা চামচ করে আদা ও রসুন বাটা এবং তিন থেকে চারটি কাঁচা মরিচ দিয়ে ভালোভাবে নেড়ে নিন। এবার ভেজে রাখা কাজু ও কিশমিশ দিয়ে আরও কিছুক্ষণ ভাজুন। এতে পোলাওয়ের স্বাদ ও ঘ্রাণ দুটোই বাড়বে। মসলা ভালোভাবে ভাজা হলে ভিজিয়ে রাখা চাল দিয়ে দিন। আঁচ মাঝারি রেখে চাল ২ থেকে ৩ মিনিট আলতোভাবে ভেজে নিন। এরপর প্রায় ৩ কাপ গরম পানি এবং স্বাদমতো লবণ দিয়ে ঢেকে রান্না করুন।
পানি ফুটে উঠলে আগে থেকে ভেজে রাখা পনির এবং আধা চা চামচ গরম মসলা দিয়ে আলতোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। পানি যখন প্রায় শুকিয়ে আসবে, তখন চুলার আঁচ একেবারে কমিয়ে পাত্রটি ঢেকে ৮ থেকে ১০ মিনিট দমে রাখুন। চুলা বন্ধ করার পর আরও ৫ মিনিট ঢাকনা না খুলে রাখলে পোলাওয়ের চাল সুন্দর ঝরঝরে হবে এবং মসলার সুগন্ধ ভালোভাবে মিশে যাবে।
সবশেষে ঢাকনা খুলে কাঁটাচামচ দিয়ে আলতোভাবে পোলাও ঝরঝরে করে নিন। ওপরে সামান্য ঘি, ভাজা পেঁয়াজ বা ধনেপাতা ছড়িয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন। পনির পোলাওয়ের সঙ্গে রায়তা, সালাদ কিংবা চাটনি থাকলে জমে যাবে পুরো আয়োজন।