ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবিতে পিটিশন, একজোট বিশ্ব ফুটবলের সমর্থকেরা

একের পর এক বিতর্কে কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিশ্বকাপের অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণ ও ফিফায় বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনার জেরে এবার সরাসরি তার পদত্যাগ দাবি করেছে বিশ্বব্যাপী ফুটবল সমর্থক জোটগুলো। সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের একটি প্রতিবেদনে এ কথা জানা গেছে।

ফুটবল সমর্থকদের ইউরোপীয় সংগঠন ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ (এফএসই) এই দাবিতে একটি পিটিশনে সমর্থন দিয়েছে। ‘চেঞ্জ ডট ওআরজি’তে প্রকাশিত পিটিশনে ইনফান্তিনোর পদত্যাগের পাশাপাশি ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা এবং সংস্থাটির নির্বাহী ক্ষমতার ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত পিটিশনে সাক্ষর করেছে ২৮ হাজার ৩২ জন।

এফএসইর সঙ্গে পিটিশনে যুক্ত হয়েছে আফ্রিকার ফুটবল সমর্থকদের সংগঠন ফুটবল সাপোর্টার্স আফ্রিকা এবং উত্তর আমেরিকার ইন্ডিপেনডেন্ট সাপোর্টার্স কাউন্সিল। বিভিন্ন দেশের আরও কয়েক ডজন সমর্থক সংগঠনও এতে সমর্থন জানিয়েছে।

ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে সমর্থকদের ক্ষোভের কেন্দ্রে রয়েছে বিশ্বকাপের মালিকানা ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে তার সাম্প্রতিক পরিকল্পনা। গত মাসে বিশ্বকাপের মালিকানার একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিলেন ফিফা সভাপতি। তখনই এর বিরোধিতা করেছিল এফএসই।

সমর্থক সংগঠনটির মতে, ফুটবল কোনো ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নয়; এটি একটি ‘সামাজিক সম্পদ’। তাই বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক ফুটবল আয়োজনের মূল্য থেকে মুনাফা করার চেষ্টা মেনে নেয়া যায় না।

পিটিশনে ইনফান্তিনোর ওই উদ্যোগকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপকে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলে দেয়ার চেষ্টা ফুটবলের প্রতি সমর্থকদের আস্থার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।

শুধু পদত্যাগের দাবিতেই থেমে থাকেনি পিটিশনে। ফিফায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের আহ্বানও জানানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বচ্ছতা, নির্বাহী ক্ষমতার ওপর কার্যকর নজরদারি এবং সংস্থার ভেতরে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন সমর্থকেরা।


পিটিশনে বলা হয়েছে, ফিফার বর্তমান স্বনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বারবার পর্যাপ্ত জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই সংস্থাটির ওপর আবারও আস্থা ফিরিয়ে আনতে কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান