মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস কমে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
তিনি বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষতিকর ও অনুপযুক্ত কনটেন্টের বিস্তারও শিশু-কিশোরদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এসব বিষয়ে সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ওসমান জামাল মিলনায়তনে ‘শত বছরের সফল ব্যক্তি স্মারক সম্মাননা এবং প্রকাশনা ও সংবর্ধনা-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার নতুন প্রজন্মের জীবনযাপনে বড় প্রভাব ফেলছে। এর ফলে বই পড়ার মতো গঠনমূলক অভ্যাস কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ক্ষতিকর ও অনুপযুক্ত কনটেন্ট শিশু-কিশোরদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া ও ক্ষতিকর কনটেন্ট তৈরির প্রবণতাও উদ্বেগজনক। এসব প্রযুক্তির অপব্যবহার প্রতিরোধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ কাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে একটি কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সমাজ ও দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, ধর্ম, দল বা পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে যারা সমাজ ও দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, তাদের অবদানকে স্বীকৃতি ও সম্মান জানাতে হবে। একই সঙ্গে তাদের জীবন ও কর্মের কথা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। তিনি বলেন, এ ধরনের ইতিহাস ও অবদান তরুণদের সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে এবং সমাজের জন্য কাজ করতে উৎসাহিত করবে।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, টাঙ্গাইলের অনেক গুণী ব্যক্তি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সমাজসেবা ও জনকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তাদের কর্ম ও অবদান সংরক্ষণ করে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এ জন্য বই প্রকাশের পাশাপাশি গ্রন্থাগারগুলোতে এসব বই ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
সম্মাননাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অভিনন্দন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, নিজেদের সৃজনশীলতা ও কর্মের মাধ্যমে যারা সমাজে অবদান রাখছেন, তাদের স্বীকৃতি অন্যদেরও ভালো কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে।
অনুষ্ঠানে আটটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। পাশাপাশি শত বছরের সফল ব্যক্তিদের স্মরণে বিভিন্ন প্রকাশনা প্রকাশ এবং গুণী ব্যক্তিদের সম্মাননা দেওয়া হয়। আয়োজকেরা জানান, সফল ও গুণী ব্যক্তিদের জীবন, কর্ম ও অবদান স্মরণীয় করে রাখা এবং সমাজে ইতিবাচক চিন্তার প্রসারে এ আয়োজন করা হয়েছে।
ছায়ানীড়ের সভাপতি ড. ইউসুফ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৮ (কালিহাতী) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান মতিন এবং ছায়ানীড়ের উপদেষ্টা আব্দুল কাশেম চৌধুরী।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ছায়ানীড়ের প্রশাসনিক পরিচালক শায়খানাজে রহমান ও নির্বাহী পরিচালক মো. লুৎফর রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তি, লেখক, সংস্কৃতিকর্মী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।