নরসিংদীতে স্ত্রীর ওপর অভিমান করে সাড়ে চার বছর বয়সী শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়েছেন আল আমিন (২৫) নামের এক ব্যক্তি। এতে বাবা ও শিশু সন্তান দুইজনই মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। গুরুতর অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যায় নরসিংদী শহরের আরশিনগর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের আরশিনগর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
আহত আল আমিন নরসিংদী শহরের পূর্ব ব্রাহ্মন্দী এলাকার হাসেম মিয়ার ছেলে। পেশায় তিনি একজন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার। তার আহত শিশু সন্তানের নাম আরিয়ান।
স্থানীয়রা জানান, আল আমিন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। স্বামীর মাদকের অভ্যাস সহ্য করতে না পেরে কিছুদিন আগে তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যান। চলে যাওয়ার সময় তিনি সাড়ে চার বছরের সন্তান আরিয়ানকে স্বামীর কাছে রেখে যান। এরপর থেকে স্ত্রীকে ফিরিয়ে এনে পুনরায় সংসার শুরু করার চেষ্টা করছিলেন আল আমিন। তবে তার স্ত্রী ফিরে আসতে অস্বীকৃতি জানান।
সম্প্রতি রুমি বেগম সংসারে ফিরে আসার আশ্বাস দিলে আল আমিন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকেন। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত স্ত্রী ফিরে না আসায় চরম হতাশায় ভেঙে পড়েন তিনি। এই ক্ষোভ ও মানসিক যন্ত্রণা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নোয়াখালীগামী ‘উপকূল এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি আরশিনগর এলাকা অতিক্রম করার সময় তিনি সন্তানকে কোলে নিয়ে রেললাইনের ওপর ঝাঁপ দেন।
ট্রেনের নিচে পড়ার পরও অলৌকিকভাবে দুজনেই বেঁচে গেলেও তাদের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। দুর্ঘটনায় আল আমিনের ডান পা এবং মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। শিশু আরিয়ানও মাথায় মারাত্মক আঘাত পেয়েছে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মনির হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, বাবা ও সন্তান দুজনের অবস্থাই অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নরসিংদী রেলওয়ে ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ মো. নাজিম উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে পড়ে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। আহত বাবা-ছেলেকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে।