মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশ স্যানিটারিওয়্যার এখন বাজারে

মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) অঙ্গপ্রতিষ্ঠান মেঘনা সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের (এমসিআইএল) ব্র্যান্ড ফ্রেশ স্যানিটারিওয়্যারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। ‘নিখুঁত, নির্মল, ফ্রেশ’ স্লোগান নিয়ে বাজারে আসা এ পণ্যে অধিকতর হোয়াইটনেস, উন্নত গ্লস ও গ্লেজ হার্ডনেস ব্যবহারের কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

নারায়ণগঞ্জের আষাঢ়িয়ারচরে এমসিআইএলের কারখানায় ফ্রেশ স্যানিটারিওয়্যারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এমজিআইয়ের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোস্তফা কামাল পণ্যগুলোর উদ্বোধন করেন। এ সময় এমজিআইয়ের ভাইস চেয়ারম্যান বিউটি আক্তার, পরিচালক তাহমিনা মোস্তফা, তানজিমা মোস্তফা, তানভীর মোস্তফা এবং এমসিআইএলের সিওও এ কে এম জিয়াউল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফ্রেশ স্যানিটারিওয়্যারে উন্নতমানের গ্লেজ উপকরণ, উচ্চমানের ফিনিশিং ও আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। অধিকতর হোয়াইটনেস পণ্যকে দীর্ঘস্থায়ী উজ্জ্বলতা দেবে। উন্নত গ্লস মসৃণ ফিনিশিং এবং গ্লেজ হার্ডনেস পণ্যের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করবে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

২০২১ সালে যাত্রা শুরুর পর পাঁচ বছরের মধ্যে ফ্রেশ সিরামিকস দেশের সিরামিক খাতে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে এমজিআই। গ্রাহকদের চাহিদার ধারাবাহিকতায় এবার স্যানিটারিওয়্যার বাজারে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ফ্রেশ স্যানিটারিওয়্যার বাজারে প্রবেশ প্রসঙ্গে মোস্তফা কামাল বলেন, নির্মাণসামগ্রী খাতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও সুনামের পাশাপাশি সিরামিক টাইলসের মাধ্যমে তাঁরা গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা ও আস্থার ভিত্তিতে ফ্রেশ সিরামিকসের পর এবার ফ্রেশ স্যানিটারিওয়্যার বাজারে আনা হয়েছে। গুণগত মান, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ও গ্রাহকদের আস্থাকে গুরুত্ব দিয়ে এ ব্র্যান্ডকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তারা।

এমসিআইএল জানিয়েছে, স্যানিটারিওয়্যার ব্যবসায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। কারখানাটিতে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ হাজার পিস স্যানিটারিওয়্যার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ৬০০-এর বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

প্রাথমিকভাবে ফ্রেশ স্যানিটারিওয়্যারে ছয় ধরনের পেডেস্টাল বেসিন, দুটি ওয়ান-পিস ওয়াটার কমোড, তিনটি টু-পিস ওয়াটার কমোড এবং তিন ধরনের স্কোয়াটিং প্যান বাজারে আনা হয়েছে। শুরুতে সাদা রঙের পণ্য পাওয়া যাবে। ভবিষ্যতে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন রঙ ও নতুন নকশার পণ্য যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে এসব পণ্য তৈরিতে শতভাগ আমদানিনির্ভর কাঁচামাল ব্যবহার করা হচ্ছে। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, মিসর, ভারত, জার্মানি ও চীন থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করছে প্রতিষ্ঠানটি। ভবিষ্যতে টেবিলটপ বেসিন, ইউরিনালসহ আরও বিভিন্ন ধরনের স্যানিটারিওয়্যার বাজারে আনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে তারা।

এমজিআইয়ের পরিচালক তানজিমা মোস্তফা বলেন, নির্মাণসামগ্রীর বাজারে পরিবর্তনের সঙ্গে গ্রাহকদের চাহিদাও বদলাচ্ছে। এখন তাঁরা পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি মান ও নির্ভরযোগ্যতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই চাহিদা পূরণে স্যানিটারিওয়্যার খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আধুনিক নকশা, মানসম্মত সিরামিক পণ্য ও কর্মদক্ষতার সমন্বয়ে গ্রাহকদের কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য।

সিরামিকসের পাশাপাশি এমজিআইয়ের নির্মাণসামগ্রীর ব্যবসায়িক পোর্টফোলিওতে সিমেন্ট, স্টিল, ইট ও ব্লক এবং নির্মাণকাজে ব্যবহৃত পাথর রয়েছে।