বদলির পরও চেয়ার ছাড়তে নারাজ ও আটকে রাখেন অস্ত্রাগারের চাবি: আরএনবি হাবিলদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) ভৈরববাজার চৌকির বিতর্কিত পোস্টিং হাবিলদার মোহাম্মদ মোসা মিয়ার বিরুদ্ধে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকা, অবৈধভাবে অস্ত্রাগারের চাবি আটকে রাখা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ইতিমধ্যেই ঢাকা বিভাগের আরএনবি কর্তৃপক্ষ তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে গঠন করা হয়েছে এক সদস্যের বিভাগীয় তদন্ত কমিটি।

আরএনবি সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে কমান্ড্যান্ট, আরএনবি ঢাকা বিভাগের পক্ষ থেকে একটি শোকজ নোটিশ জারি করা হয়। এর আগে চীফ কমান্ড্যান্ট (পূর্ব), আরএনবি, সিআরবি, চট্টগ্রামের গত ৬ জুলাইয়ের দপ্তরাদেশ (নং ৫৪.০১.১৫০০.১১৬.০৪.১২২.২৩ (পি-৩)-২০৫) অনুযায়ী হাবিলদার মোসা মিয়াকে (এইচ/৫৪৬-ই) ভৈরববাজার চৌকি থেকে আখাউড়া চৌকিতে বদলি করা হয়। আদেশ পালনে গত ১১ জুলাই পূর্বাহ্নে তাকে ভৈরববাজার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাড়পত্র প্রদান করা হয়।

তবে অভিযোগ উঠেছে, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি আখাউড়া চৌকিতে যোগ না দিয়ে গত ১১ জুলাই থেকে বিনা অনুমতিতে ও বিনা সংবাদে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এছাড়া বদলির পরও ভৈরববাজার চৌকির অস্ত্রাগারের মূল চাবি হস্তান্তর না করায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

নোটিশে আরএনবি কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করে, এ ধরনের আচরণ ‘রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা, ২০০৪’ অনুযায়ী বিভাগীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি এবং ধারা ২ (খ)-এর অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। নোটিশ প্রাপ্তির ১০ দিনের মধ্যে সন্তোষজনক লিখিত ব্যাখ্যা না দিলে তার বিরুদ্ধে কেন কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশের অনুলিপি অবগতির জন্য চীফ কমান্ড্যান্ট (পূর্ব)-এর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে গত ২২ এপ্রিল ‘ভৈরব ছাত্র ফোরাম’-এর পক্ষ থেকে জমা দেওয়া একটি লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন একই স্থানে দায়িত্ব পালনের সুযোগে মোসা মিয়া এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে অসাধু চক্রের ছত্রছায়ায় মাদক চোরাচালানীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা গ্রহণ করতেন। একই সাথে আশুগঞ্জ ও দৌলতকান্দি স্টেশন এলাকার অবৈধ স্থাপনা এবং চলন্ত ট্রেনের পকেটমার সিন্ডিকেট থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। এমনকি অধীনস্থ স্টাফদের ছুটি মঞ্জুরের বিপরীতে দিনপ্রতি ২০০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করতেন বলে জানা গেছে; চাকরির ক্ষতি ও বদলির ভয়ে নিচের সারির কর্মীরা তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পেতেন না। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তার বদলির আদেশে স্বস্তি ফিরলেও নতুন করে অভিযোগ উঠেছে—বদলির আদেশ পাওয়ার পরও তিনি ভৈরববাজার চৌকিতেই স্বপদে বহাল থাকতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন এবং আদেশটি বাতিল বা স্থগিত করাতে নানা মহলে দৌড়ঝাঁপ ও তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।

অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের লক্ষ্যে আরএনবি-র সাব-ইনস্পেক্টর (এসআই) মো. নাসির উদ্দিনকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, “অভিযোগের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তদন্ত শেষে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।”

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন ইত্তেফাককে জানান, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে হাবিলদার মোহাম্মদ মোসা মিয়ার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।