সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে ‘দুই ওসির হানি ট্র্যাপে পুলিশ কমিশনার’ শিরোনামে বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি ও এপিবিএন প্রধান হাসিব আজিজকে জড়িয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবির স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদ বার্তায় বলা হয়েছে, প্রকাশিত প্রতিবেদনে হাসিব আজিজকে নিয়ে যেসব অভিযোগ, ইঙ্গিত ও ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা একজন রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তার পেশাগত ভাবমূর্তি, ব্যক্তিগত মর্যাদা ও সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা। একই সঙ্গে তাঁর পরিবারের মানসিক শান্তির ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবাদ বার্তায় বলা হয়, হাসিব আজিজ দীর্ঘ পেশাজীবনের কঠিন পথ অতিক্রম করে বাংলাদেশ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পৌঁছেছেন। কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন, কঠিন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পেশাদার ভূমিকা ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে অতিরিক্ত আইজিপি ও এপিবিএন প্রধান হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালন রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তার অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও নেতৃত্বের প্রতি আস্থার প্রতিফলন বলেও উল্লেখ করা হয়।
হাসিব আজিজের ব্যক্তিগত অঙ্গভঙ্গির ছবি পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহার করে তাকে হেয় করারও অভিযোগ করা হয়েছে প্রতিবাদ বার্তায়। এতে বলা হয়, ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে মিথ্যা, কুৎসামূলক বা মানহানিকর বক্তব্য প্রচার কোনোভাবেই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিচয় হতে পারে না।
প্রতিবাদকারীরা প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য পুনরায় যাচাই করে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য থাকলে তা সংশোধন ও প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য যথাযথভাবে প্রকাশেরও দাবি জানানো হয়েছে।
প্রতিবাদ বার্তায় বলা হয়, হাসিব আজিজ আইনের ঊর্ধ্বে নন। তার বিরুদ্ধে কারও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তা উপস্থাপন, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তবে তদন্তের আগে সংবাদমাধ্যমে কাউকে অভিযুক্ত করা, প্রমাণের আগে জনমনে অপরাধীর ধারণা তৈরি করা কিংবা ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা ন্যায়বিচারের পদ্ধতি হতে পারে না বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার দায়িত্ব ও কর্মসম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। কিন্তু ব্যক্তিগত মর্যাদা ও চরিত্রকে লক্ষ্য করে ইঙ্গিতপূর্ণ প্রচারণা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রতিবাদ বার্তায় স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলা হয়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সত্য প্রকাশ, দুর্নীতি ও অনিয়ম তুলে ধরা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের তথ্য জনগণের সামনে আনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যাচাইহীন অভিযোগ প্রকাশ বা কারও চরিত্রহননের অধিকার নয়। গুরুতর অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই, প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়ার নীতি অনুসরণ করা উচিত।
প্রতিবাদকারীরা প্রশ্ন তোলেন, হাসিব আজিজকে ঘিরে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পেছনে কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের ভূমিকা রয়েছে কি না, অভিযোগের উৎস কী এবং কেন নির্দিষ্ট সময়ে এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলো—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
প্রতিবাদ বার্তায় বলা হয়েছে, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে আইন ও বিধি অনুযায়ী তদন্ত হবে। একই সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা পরিকল্পিত মিথ্যা তথ্য, কুৎসা, অপপ্রচার বা মানহানিকর প্রচারণার শিকার হলে তার আইনগত প্রতিকার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
হাসিব আজিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগগুলো অসত্য ও ভিত্তিহীন প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব হবে বিষয়টি পুনঃযাচাই করা, ভুল তথ্য সংশোধন করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা প্রকাশ করা।
এ ছাড়া যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার কিংবা পরিকল্পিত চরিত্রহননে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধেও প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
প্রতিবাদ বার্তায় বলা হয়, মিথ্যা অপবাদ দিয়ে একজন কর্মকর্তাকে থামিয়ে দেওয়া বা কয়েকটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে তার দীর্ঘ পেশাগত পরিচয় ও অর্জন মুছে দেওয়া সম্ভব নয়।
সবশেষে হাসিব আজিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর সংবাদ প্রত্যাহার, সংশোধন এবং প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা প্রকাশের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম, অপপ্রচারকারী ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে প্রতিবাদ বার্তায় উল্লেখ করা হয়।