খানাখন্দে চলাচলের প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়েছে রাজশাহীর উপজেলা পর্যায়ের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। বিশেষ করে জেলা সদরের সঙ্গে যুক্ত ঐ ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল দশায় প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। যানবাহন চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে। বাড়ছে দুর্ঘটনাও। এ নিয়ে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত বলে জানা গেছে।
বাগমারার সাংবাদিক ফিরোজ আহমেদ। তিনি বলেন, রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছে। মানুষ তার পরেও বাধ্য হয়ে ঐ রাস্তা ব্যবহার করছে। এতে করে প্রতিনিয়ই ছোটো-বড়ো দুর্ঘটনা ঘটছে। গত বছর ঐ রাস্তার পুরান তাহেরপুরের কাছে বাস উলটে খাদে পড়ে দুই জন নিহত হয়েছেন। এর বাইরে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। কিন্তু রাস্তাটি এখনো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’
এ ব্যাপারে রাজশাহী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুজ্জোহা রাস্তাটির কারণে মানুষের দুর্ভোগের সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, রাস্তাটি নিয়ে বড়ো একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১২০ কোটি টাকার প্রকল্পটি পাশ হতে সময় লাগবে। সম্প্রতি প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে। তারপরেও জনভোগান্তির বিষয়টি মাথায় রেখে একেবারে ব্যাপক খারাপ স্থানে সোয়েলিংয়ের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। এতে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয় হবে। এটি করতে পারলে মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হবে।
অন্যদিকে জেলার কাটাখালি থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার রাস্তাটিও খানাখন্দে ভরে গেছে। কোথাও কোথাও রাস্তার একাংশ ভেঙে পাশের পুকুরে মিশে গেছে। আবার কোথাও বড়ো গর্ত সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। তারপরও প্রতিদিন লাখ লাখ মানুুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঐ রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে। রাস্তাটিতে হরিয়ান থেকে চৌপুখরিয়া পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার পথচারীরা। আবার অনেকেই ঐ রাস্তা পরিহার করে বিকল্প রাস্তাও ব্যবহার করছেন বাধ্য হয়ে। যদিও সেটি করতে গিয়ে অনেকটা পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
এই রাস্তায় চলাচলকারী জেলার চৌপুখরিয়া গ্রামের আবুল কালাম বলেন, ‘রাস্তাটি ভয়ংকর হয়ে আছে। যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল করায় দায় হয়ে পড়েছে। তার পরেও মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে বাধ্য হয়ে। আবার অনেকেই আমগাছী থেকে ভিতর দিয়ে হাড়িয়াপাড়া হয়ে রাজশাহী শহরে যাতায়াত করছেন।’