ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার জেরে ভিসা ও সীমান্ত রুট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের শত শত নারীর বিয়ে। অবশেষে বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের একটি অংশ ভারতে পৌঁছেছেন।
এনডিটিভির প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, সম্প্রতি পাকিস্তান থেকে প্রায় ১৫০ জন নারী ভারতে পৌঁছেছেন। তাদের সবারই ভারতীয় পাত্রের সঙ্গে বাগদান হয়েছে এবং বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন।
কয়েক দশক ধরে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের অনেক পরিবার ভারতের বিভিন্ন পরিবারের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক গড়ে তুলছে। আগে পাকিস্তানি সিন্ধিদের জন্য ভারতীয় ভিসা পাওয়া এবং ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাতায়াত তুলনামূলক সহজ ছিল।
তবে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে ২০২৫ সালে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুর’ পরিচালনা করে ভারত।
অপারেশনের পর পাকিস্তান থেকে আসা সিন্ধি দর্শনার্থীদের জন্য ভিসা ও সীমান্তপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে বিয়ের প্রস্তুতি নেওয়া বহু পরিবার হঠাৎ করে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।
সরাসরি সীমান্তপথ নয়, তৃতীয় দেশের ট্রানজিট
পাকিস্তানি সিন্ধিদের নিয়ে কাজ করা রাজেশ জাম্বিয়া জানান, দীর্ঘ অপেক্ষার পর ভারত সরকার কনে ও তাদের স্বজনদের জন্য ভিসা দিয়েছে। তবে তাদের সরাসরি ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের সুযোগ হয়নি।
তৃতীয় দেশের ট্রানজিট ব্যবহার করে ভারতে পৌঁছেছেন তারা। মাসকাট, দুবাই, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের রুট ব্যবহার করে ভারত পৌঁছেছেন কনে ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।
জাম্বিয়া বলেন, অপারেশন সিঁদুরের পর পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যায়। যারা আটারি সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাঁদের ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।
আরও ৩০০ নারী অপেক্ষায়
প্রায় ১৫০ জন নারী শেষ পর্যন্ত ভারতে পৌঁছালেও পাকিস্তানে এখনো আরও প্রায় ৩০০ নারী অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন জাম্বিয়া।
তাদের অনেকেরই ভারতীয় পরিবারের সঙ্গে বিয়ের সম্পর্ক চূড়ান্ত হয়েছে। কিন্তু ভিসা ও যাতায়াতের জটিলতার কারণে বিয়ে ও ভারতে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও বৈবাহিক যোগাযোগ থাকা দুই দেশের সিন্ধি সম্প্রদায়ের জন্য এই ভিসা সংকট তাই শুধু যাতায়াতের সমস্যা নয়, বরং পারিবারিক সম্পর্ক ও বিয়ের মতো সামাজিক আয়োজনেও বড় প্রভাব ফেলেছে।