ভারতের চিকিৎসাবিদ্যা প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানী নয়াদিল্লিতে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রার ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর কর্মসূচি স্থগিতের ঠিক চার সপ্তাহের মাথায় ফের রাজপথে নামার এ ঘোষণা দিল সংগঠনটি।
সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সিজেপি জানায়, প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবার ও পুলিশের নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ইন্ডিয়া গেট থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে দিল্লি পুলিশের সদরদপ্তরে গিয়ে শেষ হবে। এ কর্মসূচির কারণে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের নতুন করে উত্তেজনা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে চলতি বছরের শুরুতে একটি ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও সাম্প্রতিক সময়ে সিজেপি নিট আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ভারতের তরুণ সমাজের বড় একটি অংশের রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়াও সংগঠনটির প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে ছিল—প্রশ্ন ফাঁসের পর প্রাণ হারানো পরীক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার সরকারি প্রতিশ্রুতি।
প্রাথমিকভাবে সরকার এসব দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে সংগঠনটি আন্দোলন স্থগিত করে। তবে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সিজেপির জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে সরকারের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।
সংগঠনটির ভাষ্যমতে, গত ২৫ জুলাই দেশের তরুণদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভারত সরকার ও বিজেপি-এনডিএ শাসিত রাজ্যগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করছে, তা পর্যালোচনার পর স্পষ্ট হয়েছে যে সরকার কালক্ষেপণ করছে এবং কৌশলে প্রতিশ্রুতি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে দায়ের হওয়া এফআইআরের তালিকা প্রত্যাহার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট চেয়েছিল। তবে সরকার সেই তালিকা সরবরাহ করেনি এবং লিখিত নিশ্চয়তা প্রদানেও স্পষ্ট অনীহা দেখিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের পরিবারবর্গ ও তরুণ সমাজকে বিপুল সংখ্যায় ইন্ডিয়া গেটে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
এর আগে টানা কয়েক সপ্তাহের তীব্র ছাত্র আন্দোলনের মুখে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। আন্দোলন চলাকালে বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনের দিকে এগোতে চাইলে দিল্লি পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এতে বহু শিক্ষার্থী এবং বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন, যা পুরো ভারতে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল।