আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ফিলিস্তিনের পাশাপাশি তুরস্ককে নিজেদের নতুন সামরিক ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তুলে ধরছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তেল আবিবের মূল মহাসড়কে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টির ঝুলানো বিলবোর্ডে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রেসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানকে ইরান ও হিজবুল্লাহ নেতাদের পাশাপাশি দাঁড় করিয়ে প্রতিপক্ষ হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সিএনএনের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, নির্বাচন সামনে রেখে সম্প্রতি সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে আবু আল-দাহার বিমানঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। তাদের দাবি, সেখানে তুরস্ক সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছিল যা ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। তবে নির্বাচনের দুই মাস আগে পরিচালিত এই হামলা নিয়ে দেশে ও বিদেশে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত টম ব্যারাক এই হামলাকে অনাবশ্যক উত্তেজনা বৃদ্ধির চেষ্টা হিসেবে সমালোচনা করেছেন। তার মতে, নির্বাচনে সুবিধা পেতেই ইসরায়েল সম্ভবত তুরস্ককে উসকানি দেওয়ার এই নীতি গ্রহণ করেছে। তুরস্কের পক্ষ থেকেও ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে তাদের নিজেদের সম্প্রসারণবাদী নীতি ঢাকার অপকৌশল বলে অভিহিত করা হয়েছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। নেতানিয়াহু সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এরদোয়ানকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী স্বৈরাচারী’ হিসেবে অভিহিত করে সিরিয়ায় তুর্কি উপস্থিতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অতীতেও এরদোয়ান নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী বলে আখ্যা দিয়েছিলেন এবং নেতানিয়াহু এরদোয়ানের বিরুদ্ধে হামাসকে সমর্থনের অভিযোগ তুলেছিলেন।
দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ, দ্য ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক এই হামলার সময়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন। জরিপে পিছিয়ে থাকা নেতানিয়াহু জনমত নিজের পক্ষে টানতে এবং নতুন নিরাপত্তা সংকট তৈরি করতে ইচ্ছাকৃতভাবে এই ফ্রন্টটি সচল করেছেন বলে সামরিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন। সংঘাত চলাকালেই মোসাদ প্রধান রোমান গফম্যান জর্ডানে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি এবং নতুন রাষ্ট্রপতি আহমেদ আল-শারার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ, তারিখ কিংবা ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য বা আপডেটের জন্য পাঠকদের সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি ওয়েবসাইট ও কমিশনের নির্দেশিকা দেখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন