প্রভোস্ট বাংলো ফাঁকা রেখে ব্যাচেলরস কোয়ার্টারে জাবি অধ্যাপক 

প্রক্টরের পদ থেকে পদত্যাগের পরও ব্যাচেলরস কোয়ার্টারে বসবাস করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম। নিয়মানুযায়ী, জরুরি প্রয়োজনে একজন বিবাহিত শিক্ষককে সর্বোচ্চ ছয় মাস ব্যাচেলরস কোয়ার্টারে থাকতে দেওয়া হয়। প্রভোস্ট বাংলো বরাদ্দ থাকার পরও তিনি কেন ব্যাচেলরস কোয়ার্টারে থাকছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

‎বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখা সূত্রে জানা যায়, অধ্যাপক রাশিদুল আলম ব্যাচেলরস কোয়ার্টারের ১৩ নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে আফম কামালউদ্দিন হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রভোস্টদের জন্য আবাসিক বাংলো বরাদ্দের ব্যবস্থা রয়েছে।

‎২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক রাশিদুল আলম। এর এক মাস পর, একই বছরের অক্টোবরে আফম কামালউদ্দিন হলের প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় তাকে। প্রক্টরের দায়িত্ব পালনের সময় তিনি ব্যাচেলরস কোয়ার্টারে ওঠেন বলে জানা গেছে। তবে গত ৩০ জুলাই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রক্টরের পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার পরও তিনি ওই কোয়ার্টারেই অবস্থান করছেন।

‎বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখার প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাচেলরস কোয়ার্টারের একটি ফ্ল্যাটে দুজন শিক্ষক থাকলে প্রত্যেকের মূল বেতনের ৯ শতাংশ হারে বাসাভাড়া কর্তন করা হয়। কোনো শিক্ষক একা একটি ফ্ল্যাটে থাকলে মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে বাসাভাড়া কর্তনের বিধান রয়েছে।

‎অন্যদিকে, বিবাহিত শিক্ষকদের জন্য নির্ধারিত আবাসিক কোয়ার্টারে বাসাভাড়া বাবদ মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কর্তনের বিধান রয়েছে।

‎বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, অধ্যাপক রাশিদুল আলমের মূল বেতন গ্রেড-২ এ ৭৬ হাজার ৪৯০ টাকা। ব্যাচেলরস কোয়ার্টারে থাকার ক্ষেত্রে ৯ শতাংশ হারে তার মাসিক বাসাভাড়া বাবদ ৬ হাজার ৮৮৪ টাকা ১০ পয়সা কর্তন করা হচ্ছে। আর প্রভোস্ট বাংলোয় থাকলে ৫০ শতাংশ হারে বাসাভাড়া বাবদ ৩৮ হাজার ২৪৫ টাকা কর্তন হওয়ার কথা।

‎সে হিসাবে ব্যাচেলরস কোয়ার্টারে থাকার কারণে প্রভোস্ট বাংলোর তুলনায় তার মাসিক বাসাভাড়া বাবদ প্রায় ৩১ হাজার ৩৬১ টাকা কম কর্তন হচ্ছে।

‎‎এস্টেট অফিস সূত্রে জানা যায়, জরুরি প্রয়োজনে একজন বিবাহিত শিক্ষক সর্বোচ্চ ছয় মাস ব্যাচেলরস কোয়ার্টারে থাকতে পারেন। 
তবে অধ্যাপক রাশিদুল আলম ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ওই কোয়ার্টারে অবস্থান করছেন বলে দাবি করেন বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র। সে হিসাবে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দীর্ঘ সময় ধরে তিনি সেখানে বসবাস করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

‎বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, অধ্যাপক রাশিদুল আলমের পরিবার ঢাকায় বসবাস করেন। এ অবস্থায় প্রভোস্ট হিসেবে তার জন্য বাংলো বরাদ্দ থাকার পরও তিনি কেন ব্যাচেলরস কোয়ার্টারে অবস্থান করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

‎একইসঙ্গে প্রভোস্ট বাংলোয় বসবাসের উপযোগী করার জন্য প্রয়োজনীয় কোনো সংস্কারকাজের আবেদনও অধ্যাপক রাশিদুল আলম করেননি বলে এস্টেট অফিস সূত্রে জানা গেছে।

‎এদিকে প্রভোস্ট হিসেবে বাংলো বরাদ্দ থাকার পরও ব্যাচেলরস কোয়ার্টারে অবস্থানের কারণ জানতে অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনে এ বিষয়ে কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে তিনি সরাসরি সাক্ষাৎ করে কথা বলার জন্য একদিন পর যোগাযোগ করতে বলেন।

‎এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রক্টর অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত কোয়ার্টারে থাকাই সঠিক। এভাবে নির্ধারিত বাসা খালি থাকলে সরকারের রাজস্বের ক্ষতি হচ্ছে।

‎প্রশাসনের অনেকেই নির্ধারিত বাংলোয় না থেকে বাইরে অবস্থান করছেন, যা নিয়মের পরিপন্থী ও অনুচিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।