দেশের ফুটবল অঙ্গনে হঠাৎ করে নতুন কটা ঢেউ শুরু হয়েছে। ব্রাজিল ফুটবল দলের খেলার কথা ছিল ভারতের বিপক্ষে। কিন্তু ব্রাজিলের ৫ সদেস্যর একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে (বাফুফে) প্রস্তাব দিয়ে গেছে ব্রাজিল আগামী ৬ অক্টোবর বাংলাদেশের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ খেলবে। এমন প্রস্তাব পেয়ে বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়াল খুশি। তিনি সরকারের সঙ্গে বৈঠক করে ব্রাজিলের বাংলাদেশ সফরটি নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন। ব্রাজিল বাংলাদেশে খেলতে চাইছে—এটা বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়াল লুফে নিয়ে ব্রাজিলিয়ানদের জানিয়ে দিয়েছেন তারা সরকারের সঙ্গে কথা বলবেন, কারণ বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করতে হবে। তাছাড়া সেপ্টম্বরে যেহেতু ফিফা আসিয়ান কাপে বাংলাদেশ খেলবে, তাই ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ এবং আশিয়ান টুর্নামেন্ট নিয়ে ফিফার সঙ্গেও কথা বলবে বাফুফে—এমনটাই বাফুফের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার দাবি।
কিন্তু ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ব্রাজিল-বাংলাদেশ প্রীতি ম্যাচ আয়োজনে আর্থিক বিষয়ে বাস্তবতা তুলে ধরেছেন। তার কাছে ব্রাজিলের চেয়ে দেশ বড়, ব্রাজিলের চেয়ে দেশের ফুটবলের পরিস্থিতি বড়। ভারতে ব্রাজিলের ম্যাচ আয়োজনে প্রায় ১০০ কোটি টাকার চাপ নিতে হবে। আর এসব নিয়ে ভারত চলছে সমালোচনা। কেন ব্রাজিলকে এনে টাকার বোঝা মাথায় নিতে হবে। ব্রাজিল ভারতের সঙ্গে ম্যাচ খেললে ভারতে কী লাভ হবে। এসব সমালোচনার পাশাপাশি দেশে চলমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল বলেন, ‘এক কথায় উত্তর দিলে এই মুহূর্তে আমরা সরকারে পক্ষ থেকে...এ ধরনের অর্থ ব্যয় করে...যেহেতু আপনারা জানেন...বিদ্যুৎ- জ্বালানি বিভিন্ন সেক্টর নিয়ে আমাদের অনেক বেশি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে, সে ক্ষেত্রে একটি ম্যাচকে উপলক্ষ্য করে সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের ব্যয় করার মতো মানসিকতা আমাদের (সরকারের) ভেতরে নেই।'
দুপুরে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বক্সিংয়ের একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বাংলাদেশ-ব্রাজিল প্রীতিম্যাচ নিয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরিই এ কথা বলেছেন।
ভারত-ব্রাজিল ম্যাচ হওয়ার কথা রয়েছে ৩ অক্টোবর, কলকাতায়। সেই ম্যাচ আয়োজনে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হবে সেটি দিতে পারবে না সরকার। তবে এই ম্যাচ নিয়ে বাফুফে সভাপতি যে তার সঙ্গে আলোচনা করেছেন সেটা উল্লেখ করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'বাফুফে সভাপতির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তাদের সঙ্গে (বাফুফে) যেহেতু কথা হয়েছে ব্রাজিল প্রতিনিধিদলের, তারা (বাফুফে) যদি বিভিন্ন স্পনসর এনে সেটাকে পরিপূর্ণতা দিতে পারে, তাহলে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করব।'
নানা সংকটের কারণে অর্থ ব্যয় করতে না চাইলেও ব্রাজিল যদি বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে সেটাকে তিনি ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। বাফুফের সহযোগিতার প্রত্যাশা প্রসঙ্গে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, 'বিষয়টা একদম প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। আমরা প্রাথমিক আলোচনাই করেছি। ব্যয়ভার বহনসহ আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো নিয়ে এখনো খোলামেলা আলোচনা হয়নি।'
ব্রাজিলের দাবি তাদের সব খরচ বহন করতে হবে, প্রতিটি ফুটবলারের সঙ্গে একজন করে সহকারী আসবেন, যাদের কাজ হচ্ছে ফুটবলারের বুট খুলে দেওয়া। বাফুফের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন যিনি বুট খুলে দেবেন তার আসা-যাওয়ার খরচও দিতে হবে।'
আমিনুল হক এবং বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়ালের মধ্যে ব্রাজিল ম্যাচ নিয়ে কথা হয়েছে। আমিনুল জানিয়েছে আদৌ ব্রাজিল আসবে কিনা এটা প্রাথমিক পর্যায়ে। এটা নিয়ে ক্লিয়ার কোনো মেসেজ নেই।'
ব্রাজিল ম্যাচ নিয়ে কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরেছেন আমিনুল। দেশের মানুষও সেটাই অনুভব করে। ব্রাজিল বাংলাদেশে এসে যদি বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলে, তাহলে বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য কতোটা ভালো হবে। আমিনুলের পরিষ্কার জবাব এধরনের ম্যাচে দেশের ফুটবলের উন্নতি হবে না। আমরা যেটা বিশ্বাস করি ব্রাজিল টিম যদি বাংলাদেশে আসে বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে খেলে। এটা বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় এ্যাচিভমেন্ট। মানুষ খেলা দেখবে, মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে ব্রাজিলের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে খেলেছে বাংলাদেশ। ব্রাজিলের সমর্থক রয়েছে বাংলাদেশে। সে কারণে হয়তো তারা আনন্দিত হবেন। কিন্তু এই ম্যাচের মাধ্যমে বাংলাদেশের ফুটবল কতোটা এগোবে আমি সেটা নিয়ে আশাবাদী না। ব্রাজিল খেলে গেলে যে, বাংলাদেশের ফুটবলে পরিবর্তন আসবে এখানে আমি একমত না।' ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনটা গুরুত্বপূর্ণ সেটি উল্লেখ করে দিয়েছেন। ফুটবলে ব্রাজিল এসে খেলে গেলে বাংলাদেশের ফুটবল কতটা উন্নতি হবে সেটা নিয়ে প্রশ্ন ছুড়েছেন বাফুফেকে। বাস্তবতা বুঝলেন আমিনুল, বুঝলেন না তাবিথ। তাই হয়তো ব্রাজিল খেলতে চাওয়ার আগ্রহে খুশি হয়েছিলেন।