ট্যানারি মালিকদের কাছে চামড়া বিক্রি করবে আড়তদাররা

ট্যানারি মালিকদের কাছে কাঁচা চামড়া বিক্রি করবেন আড়তদাররা। আর আড়তদারদের বকেয়া টাকার ব্যাপারে আগামী ২২ আগস্ট এফবিসিসিআইয়ের উদ্যোগে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা করে ফয়সালা করা হবে।  গতকাল রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ-বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের সাথে চামড়া খাতের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের এক বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। 

বৈঠক শেষে শিল্পমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে দায়দায়িত্ব এড়াতে পারি না। চামড়া শিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে যে বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তা একটি স্থায়ী সমাধানে নিতে চাই।

সালমান এফ রহমান বলেন, গার্মেন্টেসের পর চামড়া শিল্প গুরুত্বপূর্ণ খাত। ভবিষ্যতে চামড়া শিল্পটা প্রধান খাত হিসেবে ডেভেলপ করার চেষ্টা করা হবে।  

উল্লেখ্য, এবার কোরবানির পশুর চামড়ার দাম না পেয়ে পথে বসে গেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। অনেকেই কাঁচা চামড়া ফেলে দেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, কাঁচা চামড়ার দামে বড় ধসের কারণে এবার কোরবানির পশুর চামড়ার অর্ধেকের বেশি নষ্ট হয়ে যাবে। এ অবস্থায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চামড়া রপ্তানির ঘোষণা দেয়। তবে ট্যানারি মালিকরা কাঁচা চামড়া কেনার কথা জানালে আড়তদাররা তাদের বকেয়া পরিশোধ না করলে চামড়া বিক্রি করবে না বলে জানায়। ফলে বিপাকে পড়ে এ খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাই। এ সংকট সমাধানে সরকার গতকাল ট্যানারি মালিক ও আড়তদারসহ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বৈঠকে বসে।

গতকাল বৈঠক শেষে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছে—আজ থেকেই চামড়া বিক্রি শুরু করা হবে। আড়তদারদের বকেয়া টাকা পরিশোধের বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এফবিসিসিআইকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আগামী ২২ আগস্ট এফবিসিসিআইয়ের উদ্যোগে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা করে ফয়সালা করা হবে।

গতকাল সকালে পোস্তায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি আড়তেই লবণযুক্ত চামড়া মজুত আছে। বেচাকেনা নেই। তবে চামড়া ক্রয়ের সিদ্ধান্ত হওয়ায় এখন বেচাকেনা শুরু হয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, বিভিন্ন হাটে চামড়া কেনাবেচা হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যে চামড়া ক্রয় করার ব্যাপারে তিনি বলেন, যে সকল চামড়ার গুণগত মান ভালো আছে সে সকল চামড়া সরকার নির্ধারিত মূল্যে ক্রয় করবে। আর যে সকল চামড়া কিছুটা নষ্ট হয়ে গেছে সেসকল চামড়ার মূল্য কিছুটা কম পাবে। 

সরকারের কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্তের ব্যাপারে বাংলাদেশ ফিনিস্ড লেদার, লেদার গুড্স অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএলএলএফইএ) এর সিনিয়ার ভাইস চেয়ারম্যান মো. দিলজাহান ভূঁইয়া বলেন, দেশে কোরবানির সময় বা সারা বছর আমরা যে চামড়া সংগ্রহ করি, সেই চামড়া দিয়ে আমাদের ট্যানারিগুলো তিন থেকে চার মাস চলে। তারপর সারা বছর আমরা যে চামড়াটা পাই, ওই চামড়া দিয়ে কোনো কোনো ট্যানারি ৫০ ভাগ চলে, কোনো ট্যানারি ২০ ভাগ চলে, শতভাগ কোনো ট্যানারি চালাতে পারি না কাঁচা চামড়ার অভাবে। যদি কাঁচা চামড়া রপ্তানি করা হয় তাহলে আমাদের হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে যাবে।