যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ এবং সিনেটসহ অত্যন্ত সংবেদনশীল একাধিক সরকারি সংস্থায় চীনা হ্যাকারদের অনুপ্রবেশ ও সাইবার হামলার তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তারা চীনা হ্যাকারদের একটি বিশাল সাইবার অভিযান সফলভাবে নস্যাৎ করেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বুধবার (২৬ আগস্ট) জানিয়েছে, তারা চীনের একটি হ্যাকিং অভিযান ব্যর্থ করে দিয়েছে, যেটি বিচার বিভাগ, নাসা, ফেডারেল রিজার্ভ, সিনেট এবং অন্যান্য সংবেদনশীল সরকারি সংস্থাগুলোতে অনুপ্রবেশ ও আক্রমণের চেষ্টার জন্য দায়ী ছিল।
মার্কিন বিচার বিভাগের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হ্যাকিং কার্যক্রমে ব্যবহৃত ‘কিউস্ক্যান’ এবং ‘কিউটিরউটার’ নামের দুটি প্ল্যাটফর্মের ডোমেইন তারা জব্দ করেছে।
আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, হ্যাকারদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জি, ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ (এনআইএইচ) ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার চারটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ছিল।
মার্কিন বিচার বিভাগের দাবি অনুযায়ী, এই হ্যাকিং প্ল্যাটফর্মগুলো মূলত চীনের নানজিংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান 'নানজিং শিনজিউওয়েই নেটওয়ার্ক টেকনোলজি কোম্পানি' পরিচালনা করত। এই টেক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক তালিকায় চীনের বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থা 'মিনিস্ট্রি অব স্টেট সিকিউরিটি' এবং সামরিক বাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) যুক্ত রয়েছে।
তবে চীনা কর্তৃপক্ষ সবসময়ই হ্যাকিংয়ের এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
তদন্ত নথির তথ্য অনুযায়ী, এই হ্যাকার চক্রটি অন্তত ২০১৮ সাল থেকে নিজস্ব প্রযুক্তির টুলস ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সংবেদনশীল নেটওয়ার্কে আঘাত হেনে আসছে। ২০১৯ সালের আগস্টে ভিপিএনের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে নাসার নেটওয়ার্কে প্রবেশের ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছিল তারা।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এনার্জি ডিপার্টমেন্টের তিনটি ল্যাবরেটরি, এনআইএইচ, স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি সিকিউরিটি ডিভাইস প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করতে সক্ষম হয় হ্যাকাররা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনা সংযোগ থাকা সাইবার হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের সরকারি সংস্থাগুলোর পক্ষে অনেক বেসরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে এই ধরনের উচ্চমাত্রার সাইবার অনুপ্রবেশ ঘটাচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সেন্টিনেলওয়ানের বিশ্লেষক ডাকোটা ক্যারি জানান, গত এক দশকে এই ধরনের আক্রমণাত্মক সেবা প্রদানকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
মার্কিন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোর ওপর একের পর এক সাইবার হামলার এই ঘটনা ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।