পদ্মাপাড়ে লাল পতাকা স্থাপন করল প্রশাসন 

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের পশ্চিম বাহিরচর ও চররূপপুর মৌজার মুন্সিপাড়া ও টিকটিকিপাড়া ঘাটের তড়িয়ামহল এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন প্রতিরোধে লাল পতাকা স্থাপন করা হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে অভিযান চালিয়ে লাল পতাকা স্থাপন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিরুল আরাফাত, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা. গাজী আশিক বাহার ও ভেড়ামারা থানার পুলিশ সদস্যরা।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, বাহিরচর ইউনিয়নের পদ্মা নদীসংলগ্ন পশ্চিম বাহিরচর ও চররূপপুর মৌজার মুন্সিপাড়া ও টিকটিকিপাড়া ঘাটের তড়িয়ামহল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে পদ্মা নদীতে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক বছরেও নদীভাঙনে শত শত একর জমি বিলীন হয়েছে।

অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে হার্ডিঞ্জ সেতু, লালন শাহ সেতু, ভারত-বাংলাদেশ কম্বাইন্ড বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কসহ বেশ কয়েকটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়েছিল।

বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা, গোলাগুলি ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা এবং পরিবেশ বিপর্যয় রোধে গত ৬ জুন উপজেলা প্রশাসনের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পুরো বালুমহাল এলাকায় লাল পতাকা স্থাপন করে। এর দুই দিন আগে, ৪ জুন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্তৃপক্ষও বাহিরচর ইউনিয়নের বালুমহালের সড়কসংলগ্ন এলাকায় লাল পতাকা টাঙিয়েছিল।

তবে নিষেধাজ্ঞা ও সতর্কতা উপেক্ষা করে বালু ব্যবসায়ীরা আগের মতোই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সন্ধ্যায় দ্বিতীয়বারের মতো অভিযান চালিয়ে তড়িয়ামহল এলাকায় লাল পতাকা স্থাপন করে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় বালু স্থানান্তরে ব্যবহৃত পাইপলাইনের সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়।

ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিরুল আরাফাত বলেন, ‘তড়িয়ামহলে দ্বিতীয়বারের মতো লাল নিশান স্থাপন করা হলো। এর আগে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এতসব পদক্ষেপ নেওয়ার পরও অসাধু চক্রকে ঠেকানো যাচ্ছে না।’