নিখোঁজ ৮০০-এর বেশি

হিমবাহ ধসেই আকস্মিক বন্যা, নেপালে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। নেপালে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৮০০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। প্রবল বৃষ্টি, দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত থাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, হিমবাহ ধসে সৃষ্ট বিপুল ধস ও পলি প্রবাহ থেকেই এই আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত হয়েছে। বন্যার স্রোতে ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে এবং বেশ কয়েকটি সেতু ভেসে গেছে। নদীতে জমে থাকা ধ্বংসাবশেষের কারণে নতুন করে বন্যার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জীবিতদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। হেলিকপ্টারে উদ্ধার হওয়া এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, তাঁর স্ত্রী এখনো কাদামাটির নিচে কোথাও আটকে আছেন। তাঁর মতো অনেক পরিবার এখনো নিখোঁজ স্বজনদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

তিব্বতের দিকেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। সেখানে অন্তত ৫৫৮ জন নিখোঁজ এবং তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে নেপাল ও তিব্বতের নিখোঁজের পরিসংখ্যানের মধ্যে একই ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত আছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

সীমান্তের উভয় পাশে কয়েক শ বিদেশি নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে ভারতের ১৭৮ জন পর্যটক, নেপালের ১২৭ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৫ জন এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন নাগরিক রয়েছেন।

উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ডের কারণে নিখোঁজদের সন্ধান করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নদীপথে জমে থাকা ধ্বংসাবশেষ থেকে আরও আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে—এমন আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।