বিয়ে ও চলচ্চিত্রে কাজের সুযোগ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং নির্যাতনের অভিযোগে তেলেগু সিনেমার পরিচিত পরিচালক পবন সাদিনেনিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হায়দরাবাদের গোলকোন্ডা থানায় ভুক্তভোগী এক নারীর করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাকে বিচারিক হেফাজতে কারাগারে পাঠান।
অভিযোগকারী নারীর দাবি, গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিচালক পবনের সঙ্গে তার সম্পর্ক চলছিল। শুরুতে ওই নারী একটি সিনেমা পরিচালনা করার পরিকল্পনা করলে পবন তা প্রযোজনা করার পাশাপাশি তার স্বাস্থ্য, ক্যারিয়ার ও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। পরবর্তীতে ওই নারী জানতে পারেন যে পবন বিবাহিত এবং তার সন্তান রয়েছে। তবে নিজের বিবাহবিচ্ছেদের মিথ্যা প্রক্রিয়া ও আইনি জটিলতা শেষ করে তাকে শিগগিরই বিয়ের আশ্বাসের কথা বলে পবন সম্পর্ক চালিয়ে যান।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, একপর্যায়ে সম্পর্কটি কেবল প্রতারণামূলক যৌন সম্পর্কের বেড়াজালে আটকে যায়। শারীরিক অসুস্থতা ও প্যানিক অ্যাটাকের কথা জানালেও পবন তাকে জোরপূর্বক যৌন সম্পর্কে বাধ্য করতেন। এমনকি ভিডিও কলের মাধ্যমে যৌন কার্যকলাপে বাধ্য করায় সেসব ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি। এছাড়া গত ৫ আগস্ট বিকেলে পবনের নিজের বাড়িতে ভুক্তভোগী নারীর ওপর নির্মম শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। মুখে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে তাকে জ্ঞানহীন করে ফেলা হয়, যার ফলে তার মুখ ও চোখ ফুলে যাওয়ার পাশাপাশি পিঠে ও মাথায় গুরুতর জখম হয়।
ভুক্তভোগী নারীর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গোলকোন্ডা থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ৬৯ ধারা (প্রতারণামূলক উপায়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপন) এবং ১১৫(২) ধারায় (ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা) মামলা রুজু করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে ‘প্রেম ইশক কাদাল’ সিনেমার মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে ডেবিউ করা পবন সাদিনেনি এরপর ‘সাবিত্রী’ ও ২০২৩ সালের প্রশংসিত ওয়েব সিরিজ ‘দয়া’ নির্মাণ করেন। বর্তমানে দুলকার সালমান, পূজা হেগড়ে ও শ্রুতি হাসান অভিনীত ‘আকাশম লো ওকা তারা’ সিনেমার কাজ পরিচালনা করছিলেন তিনি। এই চাঞ্চল্যকর গ্রেপ্তারের পর তেলেগু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।