নওগাঁর রাণীনগর থানা পুলিশের অভিযানে এক কুখ্যাত গরু চোরের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া ৫টি গরুর লালন-পালন হচ্ছে থানায়। প্রায় এক মাসের বেশি সময় ধরে একজন লোকের মাধ্যমে গরুগুলোর দেখভাল করছেন থানার ওসি মোহাম্মদ জাকারিয়া মন্ডল। সম্প্রতি একটি গরু থেকে এঁড়ে বাছুরের জন্ম হয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
তবে এবার গরুগুলোর প্রকৃত মালিককে না পাওয়ার শর্তে আদালত থেকে নিলাম আদেশ জারি করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ আগস্ট) সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নম্বর-০১ এর কার্যালয় নওগাঁর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও নিলাম বিক্রয় কমিটির সদস্য সচিব মো. আবদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক নিলাম বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই গরুগুলো নিলামে বিক্রির বিষয়টি জানা গেছে।
আদেশ অনুযায়ী আগামী রোববার বিকেল ৩টায় থানা প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে শর্ত সাপেক্ষে এই গরুগুলো নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছেন ওসি মোহাম্মদ জাকারিয়া মন্ডল।
ওসি আরও জানান, গত জুলাই মাসে জেলার রাণীনগর, আত্রাই বদলগাছি, মহাদেবপুর উপজেলার কয়েকটি স্থানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। গোয়েন্দা তথ্য, ডাটা প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে প্রথমত একজন কুখ্যাত গরুর ডাকাতকে শনাক্ত করা হয়। এরপর পুলিশ সুপারের নির্দেশে গত ১৪ জুলাই সন্ধ্যায় জেলা গোয়েন্দা শাখা এবং রাণীনগর থানা পুলিশ অভিযান শুরু করে। অভিযানে নাটোর জেলার নলডাঙ্গা থানা এলাকা থেকে কুখ্যাত গরু চোর নওগাঁ জেলার আসলামকে র্যাবের সহযোগিতায় গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে আসলামের দেওয়া তথ্য মোতাবেক ১৫ জুলাই ভোর রাতে নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার ছোট চৌগ্রামের অসিতের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে অসিতকে আটক করা হয়। পরে অসিতের গোয়ালঘর থেকে ৫টি চোরাই গরু উদ্ধার করা হয়। গরুগুলোর মধ্যে একটি গরু ছিল গর্ভবতী। এরপর উদ্ধার হওয়া ওই গরুগুলোর প্রকৃত মালিকের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক গরুগুলোকে থানা প্রাঙ্গণে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর চুক্তিভিত্তিক লোকের মাধ্যমে গরুগুলোর দেখভাল করে আসা হচ্ছে। সম্প্রতি একটি গরু এঁড়ে বাছুরের জন্ম দিয়েছে। বর্তমানে সবগুলো গরুই সুস্থ ও ভালো আছে। নিয়মিত উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের মাধ্যমে গরুগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষার কার্যক্রমও অব্যাহত রাখা হয়েছে। নিলামের মাধ্যমে বাছুরসহ এই ৬টি গরুই বিক্রি করা হবে। শর্তসাপেক্ষে যে কেউ এই নিলাম কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।