বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে ইরানের অবস্থান জানতে চেয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিগগিরই ইরানের শর্তের তালিকা জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহসেন রেজাই।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে সম্প্রতি কাতার, ওমান ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা তেহরান সফর করেছেন। তাদের এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে নতুন করে আলোচনার পথ তৈরি করা এবং গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা।
মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনায় হরমুজ প্রণালির একটি অংশে সাময়িকভাবে জাহাজ চলাচলের পথ চালু করা এবং প্রণালিতে থাকা মাইন অপসারণে যৌথ উদ্যোগের বিষয়টি উঠে এসেছে।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের দাবিগুলো মেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলেই হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি চালু করার বিষয়ে অগ্রসর হবে তেহরান।
ইরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার, যুদ্ধের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ এবং দেশটির ওপর আরোপ করা সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বাতিল।
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহসেন রেজাই জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো তেহরানের অবস্থান জানতে চেয়েছে। শিগগিরই তাদের কাছে ইরানের শর্তের তালিকা তুলে দেওয়া হবে।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাতার, ওমান ও পাকিস্তান সক্রিয় হয়ে উঠেছে। দেশ তিনটির প্রতিনিধিরা তেহরানে গিয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
তাদের উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি বা পরোক্ষ আলোচনার নতুন সুযোগ তৈরি করা। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত পরিসরে স্বাভাবিক করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হওয়ায় হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ রয়েছে। এই নৌপথে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে।
তবে ইরানের দাবির বিপরীতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি ইতোমধ্যেই উন্মুক্ত রয়েছে এবং সেখানে দিয়ে নিয়মিত তেলবাহী জাহাজ চলাচল করছে।
ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরুর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো তাড়াহুড়ো নেই বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের ওপর আরোপ করা মার্কিন অবরোধ আপাতত বহাল থাকবে বলে তিনি স্পষ্ট করেছেন।
ফলে একদিকে হরমুজ প্রণালি চালুর শর্ত হিসেবে অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ক্ষতিপূরণের দাবি তুলছে তেহরান, অন্যদিকে এসব বিষয়ে ছাড় দেওয়ার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না ওয়াশিংটন।
এ অবস্থায় কাতার, ওমান ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতা কতটা ফলপ্রসূ হয় এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে আলোচনার দরজা খোলে কি না, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
সূত্র: রয়টার্স, আল মানার টিভি