ইউরোপা লিগের প্লে-অফ থেকে বেদনাদায়কভাবে বিদায়ের পর টেলিভিশনে সরাসরি পদত্যাগের ঘোষণা দেন ট্রাবজোনস্পোরের কোচ ফাতিহ তেককে। তবে মোহামেদ সালাহর তুর্কি ক্লাবটি পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইউরোপা লিগের বাছাইপর্বে ফেরেঙ্কভারোসির কাছে দ্বিতীয় লেগে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে যায় ট্রাবজোনস্পোর। হারের ঠিক পরপরই দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন ফাতিহ তেককে। তবে ক্লাবের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তাকে স্কোয়াডের দায়িত্বে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইউরোপ থেকে এমন লজ্জাজনক বিদায়ের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন কোচ তেককে। ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমাদের একটি অত্যন্ত দুঃখের রাত কেটেছে, আর এর জন্য দায়ী আমি এবং আমার দল। আমাদের দেশ ও সমাজের জন্যও এটি ছিল এক বেদনাক্রান্ত রাত।’
ট্রাবজোনস্পোরের কোচ আরও বলেন, ‘খেলোয়াড়টি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ম্যাচটি ভালোভাবেই এগোচ্ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা ইউরোপা লিগে জায়গা করে নিতে পারিনি।’
তেককে বলেন, ‘গত ১৮ মাস ধরে, দিন-রাত আমার দল এবং আমি কীভাবে আরও ভালো পারফরম্যান্স উপহার দেওয়া যায়, শুধু সেটাই ভেবেছি। এই মুহূর্তে আমি আমার ১৮ মাসের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিচ্ছি, এবং আমি বিশ্বাস করি—নিজেকে এভাবেই শাস্তি দেওয়ার অধিকার আমার রয়েছে।’
এদিকে এমন হৃদয়ভেঙে দেওয়া হারের হতাশা থেকে কোচ এই আবেগপ্রবণ ও হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করে ট্রাবজোনস্পোরের উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ। ক্লাবের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে কোচের পদত্যাগের গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছে ক্লাবটি।
বিবৃতিতে ট্রাবজোনস্পোর জানিয়েছে, ‘ফেরেঙ্কভারোসির কাছে হারের পর তাৎক্ষণিক উত্তেজনায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আমাদের প্রধান কোচ ফাতিহ তেককে। ট্রাবজোনস্পোরের পরিচালনা পর্ষদ ম্যানেজার ফাতিহ তেককের পদত্যাগপত্র প্রত্যাখ্যান করেছে। ফাতিহ তেককে তার ম্যানেজারি দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন এবং আগামী লিগ ম্যাচে আমেদস্পরের বিপক্ষে দলের ডাগআউটে তিনিই দায়িত্ব পালন করবেন।’