মশা নিধনে দুই সিটি করপোরেশনের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, নিজেরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করে এখন জনগণের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে। জনগণকে তাদের ঘরবাড়ি পরিষ্কার করতে বলা হচ্ছে। আদালত বলে, সত্যিকারে যেখানে অ্যাডিস মশা থাকে সেখানে কার্যকর ওষুধ ছিটালেই হয়। জনগণকে সচেতন হতে হবে—এটা ঠিক। কিন্তু সব দায় জনগণের—এমনটা ভাবার কোনো সুযোগ নেই। এ সংক্রান্ত এক মামলার শুনানিকালে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল রবিবার এ মন্তব্য করেন।
আদালত বলে, দুই সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা যথাসময়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। এটা নিলে হয়ত পরিস্থিতি এরকম হতো না। মশক নিধনের বিষয়টি সঠিকভাবে তদারকির দরকার ছিল। এতে বোঝা যায় উনাদের দক্ষতার অভাব রয়েছে।
এদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের নেওয়া কার্যক্রম আদালতকে অবহিত করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। আদালত বলে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা নিয়ে দুই ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সরকারি হিসাবে ৪৮ জন। বেসরকারি হিসাবে বলা হচ্ছে ৭২ জন। এটা কেন? জবাবে ডিএজি বলেন, সরকারি হিসেবে ৪৮ জন। যারা ডেঙ্গুতে মারা গেছেন তাদের কারো কারো অন্য রোগ থাকতে পারে। তাই এটা পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়। আদালত বলে, ধরে নিচ্ছি, ৪৮ জনই মারা গেছে। কিন্তু যারা মারা গেছে তাদের পরিবারের সদস্যদের মানসিক অবস্থা কী সেটা একবার ভাবুন। ডেঙ্গু এখন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। যথাসময়ে যদি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতো তাহলে এত লোক মারা যেত না।
এমন কিছু লিখবেন না যাতে আদালত
সম্পর্কে ভুল বার্তা যায়
হাইকোর্ট বলেছে, গণমাধ্যম স্বাধীন। তারা তাদের আচরণবিধি ও নীতি মেনে লিখবেন। তা নিয়ে আমাদের কোনো কথা নেই। তবে এমন কিছু লিখবেন না যাতে আদালত সম্পর্কে জনগণের মধ্যে ভুল বার্তা যায়, বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন্ন হয়। আদালত বলে, একটি মামলার শুনানিকালে আমরা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে ‘সার্ভেন্ট অব দ্য স্টেট’ শব্দটি ব্যবহার করলাম। সংবিধানে এটা বলা আছে, যার অর্থ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। অথচ কিছু মিডিয়া তাদের ‘চাকর’ বানিয়ে দিলেন। এটা একেবারেই ঠিক হয়নি।