পুনর্নিবাচিত হলে প্রবৃদ্ধি হবে ১০ শতাংশ

আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক গতি অব্যাহত রেখে প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য ঠিক করে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে জাপানের অর্থনীতি বিষয়ক সংবাদপত্র নিকি এশিয়ান রিভিউকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাত্কারে নিজের এই লক্ষ্যের কথা জানান তিনি। বৃহস্পতিবার সাক্ষাত্কারটি প্রকাশিত হয়।

টানা ১০ বছর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা শেখ হাসিনা আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে পুনরায় জয়ের আশা করছেন। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা যখন দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তখন প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ; তা এখন বেড়ে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়নের বৃহত্তম অংশীদার জাপানের সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে শেখ হাসিনা বলেন, চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২৩ শতাংশ অর্জন হবে। “যদি পুনর্নিবাচিত হই, আমি আপনাদের বলতে চাই যে, আমরা যেসব কর্মসূচি নেব, তাতে ২০২১ সাল নাগাদ প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশে উন্নীত হবে।”

শেখ হাসিনা সরকার আমলেই স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এই সময়ে মাথাপিছু আয় বেড়েছে প্রায় এক হাজার ডলার। বিদ্যুত্ উত্পাদন তিন গুণ বেড়েছে।

এই ১০ বছরে বাংলাদেশকে ‘উন্নয়নের মহাসড়কে’ তোলার দাবি করে আসা শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে নেওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। দলটির নেতারা বলছেন, ভোটে জনগণ উন্নয়নের পক্ষেই রায় দেবে।

শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশ এশিয়ার সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশে পরিণত হচ্ছে। অর্থনীতির গতি বাড়ানোর চেষ্টার উদাহরণ হিসেবে সারা বাংলাদেশজুড়ে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কথা জাপানি সংবাদপত্রটির কাছে তুলে ধরেন শেখ হাসিনা, যেখানে বিদেশি কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ করতে পারবে।

বিদ্যুত্ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন করতে আগামী বছর দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পাবনার রূপপুরে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, সেখানে দুটি ইউনিটে ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন হবে। বাংলাদেশে বিদ্যুত্ উত্পাদনের ক্ষমতা ১৭ হাজার ৩৪০ মেগাওয়াট, যার অর্ধেকের বেশি আসে তেল ও গ্যাস থেকে। গ্যাসের মজুদ ফুরিয়ে আসায় বিদ্যুত্ উত্পাদনে অন্য উেসর দিকে নজর এখন বাংলাদেশের। দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য দেশের দক্ষিণাঞ্চলে জমি খোঁজার কথা জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। চীন এই বিদ্যুত্ কেন্দ্রটি নির্মাণে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। প্রভাবশালী সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্কের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, নতুন পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণে যাদের প্রস্তাব দেশের জন্য ভালো হবে, সেটাই গ্রহণ করা হবে।