চার বছর ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল হয়ে পড়েছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সোনাপুর-ময়েনদিয়া সড়ক। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে উঠে গেছে পিচ ও খোয়া, সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে জমছে পানি ও কাঁদা। এতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যানবাহন ও পথচারীদের। সড়কের এমন দুরবস্থায় ক্ষোভ ও দুর্ভোগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
সোমবার (৩০ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও গর্ত এতটাই গভীর ও প্রশস্ত যে, সেসব স্থান দিয়ে যানবাহন চলাচল করাই কঠিন। বিশেষ করে যোগারদিয়া বটতলা মেইন রোডসংলগ্ন অংশের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে যানবাহন কখনো সড়কের এক পাশ, আবার কখনো মাঝপথ দিয়ে চলাচল করছে। এতে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। গর্তে পানি ও কাদা জমে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো পানির নিচে চলে যায়। ফলে কোনটি সড়ক আর কোনটি গর্ত তা বোঝার উপায় থাকে না। এতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েন মোটরসাইকেল চালকরা। পানিতে ঢাকা গর্তে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সালথা উপজেলার সোনাপুর ও পাশের বোয়ালমারী উপজেলার ময়েনদিয়া এলাকার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই সড়ক। দুই উপজেলাকে সংযুক্ত করা প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন শত শত মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, অটোরিকশা, ভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। তবে সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে ভারী ও বড় যানবাহনের চলাচল অনেকটাই কমে গেছে।
সড়কের পাশে রয়েছে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ফলে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। কৃষক ও ব্যবসায়ীদের উৎপাদিত পণ্য পরিবহনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সড়কটি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকায় পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ দুটোই বেড়েছে। জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলেও তৈরি হয়েছে প্রতিবন্ধকতা।
সড়কে চলাচলকারী পাট ব্যবসায়ী আজিজাল মোল্যা, সেকেন্দার মাস্টার ও ব্যবসায়ী মো. রাজিব হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কার না হওয়ায় এখন এটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। বৃষ্টি হলেই গর্তে পানি জমে যায়। তখন রাস্তা ও গর্ত আলাদা করে বোঝা যায় না। প্রতিদিনই দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
তারা বলেন, সড়কের দুরবস্থার কারণে পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সড়কটি সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে সালথা উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবু জাফর মিয়া বলেন, সড়কটি প্রশস্ত করার জন্য নতুন একটি প্রকল্পের আওতায় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে সড়কটির উন্নয়নকাজ করা হবে।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, সড়কটির সমস্যার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে দ্রুত উন্নয়নকাজ শুরু করা হবে।