পাবনার বেড়া পৌর এলাকায় দুই দিনে কুকুরের কামড়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ২৮ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একটি কুকুরই একে একে তিনটি মহল্লার ১৬ জনকে কামড়েছে। বাকি ১২ জন পৃথক কয়েকটি কুকুরের আক্রমণের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় পৌর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৩০ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বনগ্রাম মহল্লায় রাইয়ান (৮) নামের এক শিশুকে একটি কুকুর কামড় দেয়। রাইয়ান ওই মহল্লার রিপন হোসেনের ছেলে। কুকুরের কামড়ে তার পায়ের মাংস উঠে যায়। এরপর কুকুরটি বনগ্রাম থেকে পৌর এলাকার আরও দুটি মহল্লায় গিয়ে একের পর এক মানুষকে আক্রমণ করতে থাকে।
স্থানীয়রা জানান, ৩০ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কুকুরটির আক্রমণে বনগ্রাম, চকপাড়া ও সওদাগরপাড়া মহল্লায় ১৬ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে শিশু, নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিরাও রয়েছেন।
এ ছাড়া ৩১ আগস্ট সকাল থেকে বেড়া পৌর এলাকার সানিলা মহল্লার মো. শুভ (৫), দক্ষিণপাড়া মহল্লার আব্দুল কাদের (৫৫) এবং অন্যান্য এলাকার রাবেয়া (৪০), তধুরী (৭), আরজু (২৭), আলেয়া (৬৫) ও হামিদা (৫০) পৃথক কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩০ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ৩১ আগস্ট দুপুর ১টা পর্যন্ত বেড়া পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে কুকুরের কামড়ে মোট ২৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একই কুকুরের আক্রমণে বনগ্রাম, চকপাড়া ও সওদাগরপাড়া মহল্লায় ১৬ জন আহত হন। পৌর এলাকার অন্যান্য স্থানে পৃথক কয়েকটি কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন আরও ১২ জন।
আহতদের স্বজনেরা দ্রুত তাদের বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, কুকুরের কামড়ে আহত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। প্রথমে তাদের ক্ষতস্থান ভালোভাবে পরিষ্কার করা হয়। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রাথমিক চিকিৎসা ও জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা শেষে অধিকাংশকে বাড়িতে পাঠানো হয়। তবে রাইয়ানের পায়ের ক্ষত তুলনামূলক গুরুতর হওয়ায় তাকে বিশেষভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, একই কুকুরের ধারাবাহিক আক্রমণ এবং অন্যান্য কুকুরের কামড়ে পৌর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত কুকুরগুলো শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তাহমিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘কুকুরের কামড়ে আহত ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ক্ষতস্থান ভালোভাবে পরিষ্কার করে প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী জলাতঙ্কের টিকাও দেওয়া হয়েছে। কুকুরের কামড়ের পর দ্রুত ক্ষতস্থান পরিষ্কার করে হাসপাতালে এসে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টিকার কোর্স সম্পন্ন করা জরুরি।’