রাজধানীর গেন্ডারিয়ার স্বামীবাগের মুন্সিরটেক এলাকায় এলোপাতাড়ি গুলির ঘটনার প্রায় এক দিন পার হলেও কেউ মামলা করতে থানায় আসেননি। এ অবস্থায় বাদী না পাওয়া গেলে পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে মামলা করবে কি না, সে বিষয়েও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এদিকে পুলিশের একটি প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে মাদক ব্যবসার আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে স্থানীয় কয়েক জন ব্যক্তির মাদক ব্যবসা ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিতির অভিযোগের কথাও উঠে এসেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গত রবিবার রাত ৮টার দিকে মুন্সিরটেক এলাকায় হঠাৎ এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গুলির শব্দে স্থানীয়দের মধ্যে ছোটাছুটি শুরু হয়। এ ঘটনায় তিন জন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে এ ঘটনায় ২০ থেকে ২৫ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে । ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসাসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে একাধিক স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।
গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান বলেন, ‘গুলির ঘটনায় এখনো কেউ মামলা করতে আসেননি। কেউ অভিযোগ করলে তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হবে।' তিনি জানান, ঘটনার পর থেকেই জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়, করাতিটোলা এলাকায় মাদকের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে স্থানীয় বিএনপির ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের
সক্রিয় সদস্য মো. মনির হোসেন ও তার ভাগনে রাসেলের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে মনির হোসেনের কাছে থাকা একটি অবৈধ পিস্তল দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে জড়িতরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গুলিতে তিন জন আহত হওয়ার কথা বলা হলেও তাদের পরিচয় নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গুলিবিদ্ধ তিন জনের মধ্যে সিয়ামের বুকের বাম পাশে, আলমগীরের মাথায় এবং আশা আক্তারের ডান পায়ে গুলি লেগেছে।
গুলির ঘটনার পর সোমবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক বিভাগের একটি দল। তারা গুলিতে ক্ষতিগ্রস্ত জানালার কাচ ও দেয়াল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছে । ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পৃথক একটি দল মাঠে নামিয়েছে। ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. আকতার হোসেন বলেন, গেন্ডারিয়ায় গুলির ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে আইনি প্রক্রিয়া, তদন্ত ও গ্রেপ্তার অভিযান একসঙ্গে চলছে ।
এদিকে গুলির ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন তাদের কয়েক জন প্রতিবেশী। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আহতদের দেখতে এসে প্রতিবেশী খলিলুর রহমান ও সাজ্জাদ হোসেন রনি সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, মাদকের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।