গরমের সঙ্গে লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন, হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড়

তীব্র রোদ, ভ্যাপসা গরম আর বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে নীলফামারীর সৈয়দপুরে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ভ্যাপসা গরমে মানুষজন প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হচ্ছে না। এতে দিন আনা দিন খাওয়া খেটে খাওয়া মানুষজন পড়েছেন সবচেয়ে বিপাকে। গরমে ঠিকমতো কাজ করতে না পারায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে পরিবার-পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিনাতিপাত করছেন তারা। এদিকে, প্রখর রোদ ও ভ্যাপসা গরমে হাসপাতালসহ ক্লিনিক ও ডাক্তারদের প্রাইভেট চেম্বারে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, ডায়ারিয়াসহ চর্মরোগে আক্রান্ত রোগীর উপচেপড়া ভিড় লেগেই রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সৈয়দপুরের ১০০ শয্যার হাসপাতালে এখন তিন গুন রোগী ভর্তি থাকায় মেঝেতেই বিছানা পেতে প্রায় আড়াই শতাধিক রোগী চিসিৎসাসেবা নিচ্ছেন । এসব রোগীদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী হচ্ছেন শিশু ও বয়স্করা। তার ওপর আবার প্রচণ্ড রোদ ও ভ্যাপসা গরমে চুলকানি, স্ক্যাবিস, ছত্রাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত রোগীর ভিড় প্রতিদিনই বাড়ছে।

সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) নাজমুল হুদা বলেন, “এখানে আমার চাকরি জীবনে প্রথম এত রোগীর ভিড় দেখছি। আমাদের হাসপাতালে ১০০ শয্যা রয়েছে, সেখানে তিন গুন ভর্তি রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এসব রোগীর মধ্যে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্য বেশি, যার মধ্যে বেশিরভাগ শিশু ও বয়স্করা রয়েছেন।' তিনি জানান, এই গরমে প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের না হওয়া, খোলা খাবার, রাস্তাঘাটের শরবত, ঠান্ডা পানীয় খাওয়া যাবে না। বেশি ঘাম হলে পর্যাপ্ত পানি ও স্যালাইন খাওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা ।

সৈয়দপুর বিমানবন্দরের আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হাকিম জানান, সোমবার সৈয়দপুরে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৬০ শতাংশ। তিনি জানান, বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরমে জনজীবনে অস্বস্তি বিরাজ করছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের বিষয়ে জান নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপপ্লাই কোম্পানি পিএলসি (নেসকো) নির্বাহী প্রকৌশলী (আবাসিক) আলিমুল ইসলাম জানান, দেশের মতো জ্বালানি সংকটে সৈয়দপুরেও লোডশেডিং হচ্ছে। তাছাড়া সৈয়দপুরে ৬১ হাজার (মিটার রয়েছে) গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ যেখানে ৪০ মেগাওয়াটের প্রয়োজন সেখানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ২১ মেগওয়াট । যার জন্য লোডশেডিং হচ্ছে ।

পাবনায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং
চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা : পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ (চাটমোহর) এর আওতাধিন চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, আটঘরিয়া, ঈশ্বরদী (আংশিক) ও পাবনা সদর (আংশিক) উপজেলাতে বিদ্যুতের লোডশেডিং বৃদ্ধির কারণে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে । প্রতি ঘণ্টায় লোডশেডিং করা হচ্ছে। ফলে মানুষের জীবনযাত্রা, ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরেই বিদ্যুতের লোডশেডিং ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। রাতের বিদ্যুতের লোডশেডিং হলে বেড়ে যায় মশার উপদ্রব । গরমে হাসফাঁস করে সাধারণ মানুষ ।

চাটমোহর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. জিয়রুল হক সিন্টু জানান, বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে শুধু বাসা-বাড়িতেই সমস্যা হচ্ছে না। কল-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষুদ্র বিদ্যুৎভিত্তিক ব্যবসায়ীরা পড়েছেন বিপাকে। গত রবিবার চাটমোহর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাতেও বিদ্যুতের লোডশেডিং নিয়ে সদস্যরা কথা বলেছেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (সদস্য সেবা) মো. সাকির হোসেন জানান, এই সমিতিতে প্রতিদিনই চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম পাওয়া যাচ্ছে। সোমবার পিক আওয়ার ও অফ পিক আওয়ার মিলে বিদ্যুতের চাহিদা ৭৬ মেগাওয়াট। কিন্তু পাওয়া গেছে ৪৫ মেগাওয়াট। ফলে ৩১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি নিয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ পাওয়ার উপর নির্ভর করে প্রতিদিনের লোডশেডিং। তবে ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ের বিষয়টি সঠিক নয় বলে জানান এই কর্মকর্তা ।