রানিং শু কেনার আগে খেয়াল রাখুন ৫ বিষয়

রানিং শু কেনার ক্ষেত্রে অনেকেই সৌন্দর্য, দাম বা ব্র্যান্ডকে প্রাধান্য দেন। অথচ দৌড়ানোর জন্য সঠিক জুতা নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের পায়ের গঠন ও প্রয়োজন। আপনি কী ধরনের পথে দৌড়ান, কত দূরত্ব দৌড়ান এবং জুতাটি কতটা আরামদায়ক-এসব বিষয়ও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

ভালো মানের রানিং শু সাধারণত কয়েকশ মাইল পর্যন্ত টেকসই হয়। তাই একবার কেনার পর দীর্ঘ সময় ব্যবহারের বিষয়টি মাথায় রেখে জুতার ফিট ও প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্য যাচাই করা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, রানিং শু কেনার আগে যে পাঁচটি বিষয় অবশ্যই দেখে নেবেন, তা জেনে নিন।


১. শুরুতেই দামি জুতো কেনার দরকার নেই

দৌড় শুরু করেছেন বলেই কার্বন-ফাইবার প্লেটযুক্ত দামি ‘সুপার শু’ কিনতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। নতুন দৌড়বিদদের জন্য সাধারণ, আরামদায়ক এবং পায়ের সঙ্গে ভালোভাবে মানানসই জুতাই যথেষ্ট।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অত্যাধুনিক কিছু রানিং শু অভিজ্ঞ দৌড়বিদদের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে দৌড়ানোর ধরন বা ভঙ্গিতে পরিবর্তন আনার জন্য তৈরি এসব জুতা নতুনদের ক্ষেত্রে কখনো কখনো অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

তাই প্রথম রানিং শু কেনার সময় যে ধরনের জুতা পরে হাঁটতে সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তার কাছাকাছি ধরনের জুতা বেছে নেওয়া যেতে পারে।

২. প্রথম বার পরেই আরাম লাগছে কি না দেখুন

অনেক জুতো প্রথম দিকে শক্ত মনে হলেও কয়েক দিন ব্যবহারের পর নরম হয়ে যায়। কিন্তু রানিং শুর ক্ষেত্রে এই ধারণার উপর ভরসা না করাই ভালো।

জুতো পায়ে দিয়েই যদি চাপ, ঘষা বা অস্বস্তি অনুভব করেন, তা হলে সেটি সময়ের সঙ্গে ঠিক হয়ে যাবে এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং নিয়মিত দৌড়ানোর ফলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

তাই কেনার আগে জুতো পরে কয়েক মিনিট হাঁটুন। পায়ের আঙুল নড়াতে পারছেন কি না, গোড়ালিতে চাপ পড়ছে কি না এবং কোথাও ঘষা লাগছে কি না খেয়াল করুন। প্রথম পরাতেই আরামদায়ক লাগছে, এমন জুতোকেই অগ্রাধিকার দিন।

৩. শুধু পায়ের দৈর্ঘ্য নয়, প্রস্থও মাপুন

রানিং শুর মাপ বাছার সময় অনেকেই শুধু পায়ের দৈর্ঘ্যের দিকে নজর দেন। কিন্তু পায়ের প্রস্থও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পা চওড়া হলে সরু জুতোর মধ্যে সেটিকে গুঁজে রাখলে দীর্ঘক্ষণ দৌড়ানোর সময় অস্বস্তি হতে পারে। তাই নিজের পায়ের গড়নের সঙ্গে মিলিয়ে জুতোর প্রস্থ বেছে নিন।

একই মডেলের জুতো অনেক সময় সাধারণ, ওয়াইড এবং এক্সট্রা ওয়াইড বিভিন্ন প্রস্থে পাওয়া যায়। তাই শুধু ‘কোন সাইজ পরি’ না ভেবে ‘কোন প্রস্থের জুতো পরলে আরাম হয়’ সেটিও দেখুন।

৪. জুতোর ‘ড্রপ’ বুঝে কিনুন

রানিং শুয়ের ক্ষেত্রে ‘ড্রপ’ শব্দটি প্রায়ই শোনা যায়। এটি হল জুতোর গোড়ালির নিচের মিডসোল এবং পায়ের সামনের অংশের নিচের মিডসোলের পুরুত্বের পার্থক্য। যারা দৌড়ানোর সময় গোড়ালির অংশ আগে মাটিতে ফেলেন, তাদের জন্য প্রায় ৮-১০ মিলিমিটার ড্রপের জুতো উপযোগী হতে পারে। আর যারা পায়ের মাঝামাঝি বা সামনের অংশে ভর দিয়ে মাটিতে নামেন, তাদের ক্ষেত্রে ০-৮ মিলিমিটার ড্রপের জুতো বিবেচনা করা যেতে পারে।

নিজের পা কীভাবে মাটিতে পড়ে, তা নিয়ে নিশ্চিত না হলে বিশেষায়িত রানিং শুর দোকানে ফুট স্ক্যান করিয়ে নিতে পারেন। এতে নিজের পায়ের ধরন অনুযায়ী জুতো বেছে নেওয়া সহজ হবে।

৫. বেশি দূরত্ব দৌড়ালে সামনের দিকে বাড়তি জায়গা রাখুন

দীর্ঘক্ষণ দৌড়ানোর সময় পা কিছুটা ফুলে যেতে পারে। তাই যারা নিয়মিত ১০ মাইল বা তার বেশি দূরত্ব দৌড়ান, তাদের ক্ষেত্রে জুতোর সামনের দিকে কিছুটা বাড়তি জায়গা থাকা সুবিধাজনক।

জুতো খুব আঁটসাঁট হলে দৌড়ানোর সময় পায়ের আঙুলে বারবার চাপ ও ঘর্ষণ তৈরি হতে পারে। এর ফলে নখে আঘাত লেগে কালচে হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তাই জুতো পরার সময় পায়ের আঙুলগুলি স্বাভাবিক ভাবে নড়াচড়া করতে পারছে কি না এবং সামনের দিকে পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে নিন।

রানিং শু কেনার সহজ নিয়ম

দেখতে সুন্দর বা জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের হলেই যে একটি রানিং শু আপনার জন্য ভালো হবে, তা নয়। জুতা কেনার সময় এর আরাম, মাপ, পায়ের প্রস্থ, দৌড়ের ধরন এবং ব্যবহারের উদ্দেশ্য বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। প্রথমবার কিনলে তাই দাম বা জনপ্রিয়তার চেয়ে পায়ের আরামকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়াই ভালো।

সূত্র: দ্যা গাডিয়ান