নতুন মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের কবলে ইরান, বাড়ছে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি

ইরানে মার্কিন হামলায় প্রথমবারের মতো ব্যবহৃত নতুন প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইলের ছোড়া ক্ষুদ্র ধাতব দানা বহুদূর ছড়িয়ে পড়ে বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি ঘটিয়েছে।

নজরদারি সংস্থা এয়ারওয়ার্স এবং প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের লামের্দ শহরে মার্কিন বাহিনী তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে বিস্ফোরণস্থল থেকে ৫০ মিটার দূর পর্যন্ত মানুষ নিহত হয় এবং এর চেয়ে তিন গুণ বেশি দূরের এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইরানের পূর্ব তথ্যানুসারে এই তিন বিস্ফোরণে সাত শিশুসহ অন্তত ২১ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হন। লামের্দ শহরের একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্স এবং দুটি আবাসিক এলাকায় এই হামলা চালানো হয়, যার ক্ষতচিহ্ন পিআরএসএম ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসক্ষমতার সঙ্গে সম্পূর্ণ মিলে যায় বলে বিশেষজ্ঞরা জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সামরিক উপদেষ্টা মাইকেল মাইয়ার বলেন, ‘ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পিআরএসএম ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ খুঁজে পাওয়া কঠিন।’ এপি-র সঙ্গে কথা বলা সাবেক দুই কর্মকর্তা সহ ছয়জন বিশেষজ্ঞ এই হামলায় মার্কিন পিআরএসএম ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা নিশ্চিত করেছেন।

হামলার সময় কেন্দ্রস্থল থেকে ১৭০ মিটার দূরে অবস্থিত একটি বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শহীদ নাইমি স্পোর্টস হলে সাত বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। অন্যদিকে তাল-ই খানদাঘ এলাকায় বাড়ির সামনে খেলার সময় বিস্ফোরণস্থল থেকে ৫০ মিটার দূরে উগে আসা ধাতব ছররা গুলির আঘাতে ২ বছর বয়সী শিশু আবিনা বারজেগার মারা যায়।

ঘটনার দায় অস্বীকার করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, এই অনুসন্ধানগুলো পুরানো তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা। তবে ১ মার্চ তারা ইরানে প্রথমবার এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ছবি ও তথ্য প্রকাশ করেছিল। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীও সেদিন লামের্দ এলাকায় কোনো হামলা চালানোর কথা অস্বীকার করে। এই হামলার পরপরই পেন্টাগন লকহিড মার্টিনের সঙ্গে পিআরএসএম উৎপাদন চারগুণ বাড়াতে ৪০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের একটি চুক্তি করেছে।

সূত্র: এনডিটিভি