লেস্টার সিটির সঙ্গে দীর্ঘ ২১ বছরের সম্পর্কের ইতি টানলেন বাংলাদেশি ফুটবলার হামজা চৌধুরী। গেল বছর লোনে শেফিল্ডে গেলেও এবার স্থায়ীভাবে ক্লাবটিতে যোগ দিয়েছেন ২৮ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার। হামজাকে এক বছরের চুক্তিতে দলে ভিড়িয়েছে শেফিল্ড, তবে ট্রান্সফার ফি প্রকাশ করা হয়নি। ২০২৪-২৫ মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে ধারে শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে খেলেছিলেন হামজা। সেই সময় ক্লাবটির হয়ে ১৬টি লিগ ম্যাচে মাঠে নামেন তিনি। এর মধ্যে সান্ডারল্যান্ডের কাছে চ্যাম্পিয়নশিপ প্লে-অফ ফাইনালে হারের ম্যাচটিও ছিল।
লেস্টারের একাডেমি থেকেই উঠে এসেছেন হামজা। ক্লাবটির হয়ে ১১ মৌসুমে মোট ১৬৬ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। চলতি মৌসুমেও লেস্টারের হয়ে তিনটি ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন। লেস্টারের হয়ে তার ক্যারিয়ারে সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায় ২০১৫-১৬ মৌসুমে, যখন ক্লাবটি প্রথমবারের মতো প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জেতে। ২০২১ সালে চেলসিকে হারিয়ে লেস্টারের এফএ কাপ জয়ের দলেও ছিলেন হামজা।
শেফিল্ড ইউনাইটেডের কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার হামজাকে দলে ফেরাতে পেরে উচ্ছ্বসিত। ক্লাবের ওয়েবসাইটে তিনি বলেন, 'কার্ডিফের বিপক্ষে ম্যাচের পর আমি বলেছিলাম, আমাদের দল আরও শক্তিশালী করা দরকার। বর্তমানে দলে এক-দুটি চোটের সমস্যা থাকায় রাইট-ব্যাকে প্রতিযোগিতা বাড়ানোটা অপরিহার্য ছিল। আমরা সবাই জানি, হামজা এই ভূমিকা এবং এর চেয়েও অনেক বেশি কিছু করতে পারে। এখানে তার প্রথম মেয়াদের শেষ ১০ ম্যাচে সে নিঃসন্দেহে আমাদের সেরা খেলোয়াড় ছিল। এর মধ্যে প্লে-অফের সেমিফাইনাল ও ফাইনালও রয়েছে।'
এর আগে ২০২২-২৩ মৌসুমে ওয়াটফোর্ডে ধারে খেলার সময়ও ওয়াইল্ডারের অধীনে খেলেছিলেন হামজা। তাই পুরোনো কোচের সঙ্গে ফের কাজ করার সুযোগ পেয়ে তিনিও খুশি। হামজা বলেন, 'ওয়াটফোর্ডে অল্প সময়ের জন্য এবং এরপর এখানে আমার শেষ মেয়াদে এই ম্যানেজারের সঙ্গে কাজ করেছি। আমরা সবসময় যোগাযোগ রেখেছি। আমি তার অধীনে খেলতে সত্যিই ভালোবাসি।'
লেস্টার ছাড়ার সিদ্ধান্তটি হামজার জন্য আবেগেরও। জীবনের দীর্ঘ সময় কাটানো ক্লাবটি ছেড়ে নতুন অধ্যায়ে পা রাখছেন তিনি। হামজা বলেন, 'এটা আমার জন্য বড় একটি পরিবর্তন। আমি প্রায় ২১ বছর ধরে লেস্টারে আছি। তাই এটা আমার এবং আমার পরিবারের জন্য বড় পরিবর্তন। তবে আমি এর জন্য সত্যিই উন্মুখ হয়ে আছি।'