ছুটি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করতে যাওয়ার পর ছুটি শেষে দেশে না ফেরায় এক সিনিয়র সহকারী সচিবকে বরখাস্ত করেছে মন্ত্রণালয়। বর্তমানে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) সিনিয়র সহকারী সচিব উম্মে হানীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির জন্য ২০১৯ সালের ১৯ আগস্ট থেকে ২০২২ সালের ৩১ মে পর্যন্ত উম্মে হানীর প্রেষণ মঞ্জুর করা হয়। কোর্সটি শেষ করার জন্য প্রেষণের ধারাবাহিকতায় তাঁর অনুকূলে ২০২২ সালের ১ জুন থেকে ২০২৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রেষণ এবং ২০২৩ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ১৮ আগস্ট পর্যন্ত অধ্যয়নছুটি মঞ্জুর করা হয়।
এই মেয়াদ শেষ হলে উম্মে হানীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ২৪ আগস্ট পর্যন্ত প্রেষণের মেয়াদ বাড়ানো হয়। চলমান পিএইচডি প্রোগ্রামটি শেষ করতে তিনি পুনরায় ২০২৩ সালের ২৪ আগস্ট থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অধ্যয়নছুটির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেন।
উম্মে হানীর আবেদনের প্রেক্ষিতে অধ্যয়নের জন্য প্রেষণের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং অধ্যয়ন ছুটি (অর্ধগড়বেতনে) মঞ্জুর হওয়ায় আগের ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের ২৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁর অধ্যয়ন ছুটির মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদনটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ (কর্মকালীন) সংক্রান্ত কমিটির সভায় নামঞ্জুর করা হয় এবং তাঁকে অনুমোদিত ছুটি শেষে দেশে ফিরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগদান করার জন্য চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি আদেশ লঙ্ঘণ করে অনুমোদিত ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগদান না করে ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট থেকে অনুমোদন ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, অনুমতি নিয়ে দেশত্যাগ করার পর অনুমোদিত সময়ের অতিরিক্ত ৬০ দিনের বেশি সময় অননুমোদিতভাবে বিদেশে অবস্থান করার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য করে কর্তব্য ও কাজে চরম অবহেলা করায় তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’ এর অভিযোগে ২০২৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় মামলা করে কৈফিয়ত তলব করা হয়। তিনি জবাব দাখিল না করার পর তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’ এর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে জানিয়ে প্রতিবেদন দেন। এরপর উম্মে হানীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তাকে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ওই নোটিশ তার স্থায়ী ঠিকানা ও ই-মেইলে পাঠানো হলেও জবাব পাওয়া যায়নি। ফলে সরকারি কর্ম কমিশনের মতামত নিয়ে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগে উম্মে হানীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।