ইরানের ওপর পারমাণবিক হামলার পরিকল্পনা বাদ দিয়েছেন কি না—এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ওই প্রশ্নকে ‘স্টুপিড প্রশ্ন’ বলে মন্তব্য করেছেন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) এক সাংবাদিক ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, ইরানের ওপর পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের চিন্তা তিনি বাদ দিয়েছেন কি না। আর প্রশ্ন শুনে ক্ষিপ্ত হন তিনি। ওই সাংবাদিকের প্রশ্নকে স্টুপিড প্রশ্ন হিসেবে অভিহিত করেন ট্রাম্প।
জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ইতোমধ্যে ধ্বংস করা হয়েছে। তাই দেশটির বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন নেই।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি হয়ত কখনো এর উত্তর দিতাম না। তবে উত্তর হলো হ্যাঁ। আমি ইরানে পারমাণবিক হামলার চিন্তা বাদ দিয়েছি। (এখন) পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন নেই। সত্যিকার অর্থে কী স্টুপিড প্রশ্ন এটি। ইরান সামরিকভাবে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত হয়েছে। তো আমি তাদের হারিয়েছি, এখন তাদের ওপর আমার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা উচিত! কী স্টুপিড প্রশ্ন।’
এর আগে অবশ্য ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের বিভিন্ন পর্যায়ে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা একাধিকবার বলেছিলেন ট্রাম্প।
ইরানের সঙ্গে চলমান এই উত্তেজনা সীমিত সামরিক অভিযানের অংশ নাকি তা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দিকে যাচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ইরানকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যা দেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ৩৫০ শতাংশে ঠেকেছে। ওদের মুদ্রার কোনো মান নেই। ওরা সেনাদের বেতন দিতে পারছে না। ওদের বেশিরভাগ শীর্ষ নেতাই মারা গেছেন। ওদের নৌবাহিনী শেষ, বিমানবাহিনীও ধ্বংস হয়ে গেছে। ওদের নজরদারির সরঞ্জামও বলতে গেলে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এর মানে এই নয় যে আমরা ওদের ওপর আঘাত হানব না। দেখা যাক কী হয়।’
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথ হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এরপর প্রায় ৪০ দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত চলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি হয়। তবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি হামলার তীব্রতা কমলেও গত রোববার আবারও হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে।