শরণখোলায় ডুবে গেছে সবজি ক্ষেত, ভেসে গেছে মাছ

শরণখোলায় টানা বর্ষণে ডুবে গেছে সবজি ক্ষেত। এতে করে প্রায় অর্ধকোটি টাকার সবজি নষ্ট হয়েছে। ভেসে গেছে লাখ লাখ টাকার পুকুরের মাছ।

সোমবার সকালে সরেজমিনে উপজেলার দ্বীপচর গ্রাম ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত শুক্র ও শনিবারের প্রবল বর্ষণে দ্বীপচর গ্রামের শাক সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যায়। পানির নিচে ডুবে রয়েছে লাউ, করলা, শসা, ঝিঙ্গা, লালশাক, মিষ্টিকুমড়া, চালকুমড়াসহ বিভিন্ন শাক-সবজির ক্ষেত। সবজি ক্ষেতের মধ্যে কোথাও কোথাও হাঁটু সমান পানি জমে রয়েছে।

দ্বীপচর গ্রামের কৃষি বিভাগের আইপিএম ক্লাবের সভাপতি মনির সওদাগর জানান, দ্বীপচর গ্রামে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় প্রবল বৃষ্টিপাতে পানি আটকে গ্রামের শত শত বিঘা জমির শাক-সবজি নষ্ট হয়েছে। পানিতে ভেসে গেছে ৯টি পুকুরের কয়েক লাখ টাকার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। 

কৃষক জালাল সওদাগর, রুহুল আমিন শেখ, আলামিন তালুকদার, মামুন হাওলাদারসহ আরো কয়েকজন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বৃষ্টিতে তাদের ক্ষেতের সবজি নষ্ট হয়ে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।

তারা আরো বলেন, তাদের উৎপাদিত সবজি অত্র উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে মোরেলগঞ্জ, মোংলা এমন কি রাজধানী ঢাকা শহর পর্যন্ত যায়। প্রতিদিন প্রায় লাখ টাকার সবজি তারা বিক্রি করে থাকেন। বৃষ্টিপাতে তাদের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি টাকা বলে কৃষকদের দাবি। 

আরো পড়ুন: কাশ্মীরিদের মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে: মমতা

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌমিত্র সরকার বলেন, দ্বীপচর গ্রামে সারা বছর ৮/৯ হেক্টর জমিতে শাক-সবজি উৎপন্ন হয়। চলমান বৃষ্টিপাতে ক্ষেতের সবজি নষ্টের খবর তিনি পেয়েছেন। পানি নেমে গেলে তেমন ক্ষতি হবে না। 

প্রবল বর্ষণে দ্বীপচরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে যাওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার রায়। 

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিংকন বিশ্বাস বলেন, বৃষ্টিপাতে কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির খবর শুনেছি। অচিরেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ