সেপ্টেম্বর মাস শুরু হওয়ার সাথে সাথে ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকার বাকি অংশটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বছরের শেষ চার মাসে (সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর) মোট ছয় দিন সরকারি ছুটি থাকলেও এর মধ্যে তিনটি ছুটিই পড়েছে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির দিনে। ফলে এই চার মাসে সরকারি চাকরিজীবীরা অতিরিক্ত কর্মদিবসের ছুটি পাবেন মাত্র তিন দিন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, চলতি বছরে সাধারণ ছুটি ১৪ দিন এবং নির্বাহী আদেশে ছুটি ১৪ দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে সরকার ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পুনর্বহাল করে দিনটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করায় মোট ছুটির সংখ্যা আরও বেড়েছে।
সেপ্টেম্বরে ছুটি, তবে শুক্রবার
সেপ্টেম্বর মাসে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে ৪ সেপ্টেম্বর সরকারি ছুটি থাকবে। তবে দিনটি শুক্রবার হওয়ায় এটি সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলে গেছে। ফলে এ জন্য অতিরিক্ত কর্মদিবসের ছুটি মিলবে না।
অক্টোবরে টানা দুই কর্মদিবসের ছুটি
অক্টোবর মাসে দুর্গাপূজা উপলক্ষে দুটি সরকারি ছুটি রয়েছে। ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহা নবমী এবং ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে ছুটি থাকবে। দুটি দিনই কর্মদিবসে হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীরা টানা দুই দিনের ছুটি পাবেন।
নভেম্বরে ফিরেছে ৭ নভেম্বরের ছুটি
সরকার ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে ৭ নভেম্বরকে পুনর্বহাল করে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। তবে ২০২৬ সালে দিনটি শনিবার হওয়ায় এটিও সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলে গেছে। ফলে অতিরিক্ত কর্মদিবসের ছুটি মিলবে না।
ডিসেম্বরে দুই দিনের ছুটি
বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে রয়েছে দুটি সরকারি ছুটি। ১৬ ডিসেম্বর বুধবার মহান বিজয় দিবস এবং ২৫ ডিসেম্বর শুক্রবার যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন (বড়দিন) উপলক্ষে ছুটি থাকবে। তবে ২৫ ডিসেম্বর শুক্রবার হওয়ায় সেটিও সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলে যাবে। ফলে কর্মদিবসে ছুটি মিলবে শুধু ১৬ ডিসেম্বর।
এক নজরে বছরের বাকি ছয় ছুটি
সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীদের সামনে থাকা ছুটির দিনগুলো হলো-
অর্থাৎ, বছরের শেষ চার মাসে মোট ছুটি ছয় দিন হলেও কর্মদিবসে ছুটি মিলবে মাত্র তিন দিন- ২০ ও ২১ অক্টোবর এবং ১৬ ডিসেম্বর।
কারা পাবেন না?
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘সরকারি ছুটির তালিকা’ মূলত দেশের সব সরকারি ও আধা-সরকারি অফিস এবং সংবিধিবদ্ধ, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার জন্য প্রযোজ্য। ২০২৬ সালের প্রজ্ঞাপনেই এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ছুটির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
তাই সব বেসরকারি চাকরিজীবী স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ছয় দিনের ছুটি পাবেন; এমন নয়। বেসরকারি শিল্প-কারখানা ও প্রতিষ্ঠানের ছুটি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন, শ্রম আইন এবং প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। উদাহরণ হিসেবে, ২০২৬ সালে ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিসের বন্ধ/খোলা থাকার বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল।
অর্থাৎ সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সামনে থাকা ছয় দিনের ছুটি নিশ্চিত হলেও বেসরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও প্রযোজ্য বিধানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।