নড়াইল সদর উপজেলায় মারকাযুল কুরআন নামের একটি মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থী সৈয়দ সুলায়মান ইসলাম অভি (১৪) শিক্ষকদের মারধরের কারণে অসুস্থ হয়ে মারা গেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার তিন শিক্ষককে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। আটক শিক্ষকেরা হলেন ইউসুফ হায়দার (৩২), হাসিবুর রহমান (২৮) ও ফাহাদ শেখ (২৫)।
নিহত সুলায়মান ইসলাম অভি সদর উপজেলার আউড়িয়া গ্রামে অবস্থিত ‘মারকাযুল কুরআন নড়াইল’ মাদ্রাসার কিতাব বিভাগের প্রথম বর্ষের আবাসিক ছাত্র ছিল। সে একই উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ ইকরাম আলীর ছেলে। তবে শিক্ষার্থীদের মারধরের মাধ্যমে মৃত্যুর অভিযোগটি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।
নিহত শিক্ষার্থীর বাবা সৈয়দ ইকরাম আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, মাদ্রাসার আবাসিক হোস্টেলে অবস্থানকালে বুধবার শেষরাতের দিকে সুলায়মান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাদ্রাসা থেকে তার মায়ের কাছে মুঠোফোনে কল করে ছেলের অসুস্থতার খবর দেওয়া হয়। সংবাদ পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত মাদ্রাসায় পৌঁছে সুলায়মানকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। সেখানে তার শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোরে স্থানান্তর করা হয়। তবে যশোর নেওয়ার পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সুলায়মান। ইকরাম আলীর অভিযোগ, মাদ্রাসায় শিক্ষকদের শারীরিক নির্যাতনের কারণেই তার ছেলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে প্রাণ হারিয়েছে। এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনেরা মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটন করে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে মারকাযুল কুরআন নড়াইল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নাজমুস সায়াদাৎ আল মামুন জানান, তাঁদের প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষক ওই শিক্ষার্থীকে মারধর বা নির্যাতন করেননি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, চিকিৎসকের ময়নাতদন্ত বা ডাক্তারি পরীক্ষায় যদি নির্যাতনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় এবং এর সঙ্গে তাঁদের প্রতিষ্ঠানের কেউ জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়, তবে তাঁরা আইনের আওতায় যেকোনো ধরনের শাস্তি মেনে নিতে প্রস্তুত।
ঘটনার তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ প্রসঙ্গে নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রকিবুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে। তিনি আরও নিশ্চিত করেন, বিষয়টি অধিকতর খতিয়ে দেখতে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাদ্রাসার তিন শিক্ষক ইউসুফ হায়দার, হাসিবুর রহমান ও ফাহাদ শেখকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।