সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের নিরাপত্তা দাবি

জামিনে বেরিয়ে ভাইয়ের পা কর্তন, এক বছর পর ভাতিজাকে হত্যা

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৭

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের পা কেটে পঙ্গু করে দেওয়ার এক বছর পর তার ছেলে ও নিজের ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে একই পরিবারের বিরুদ্ধে।

নিহত ইলিয়াস মোল্লা মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন। দেশে ফেরার পর গত ১৯ জুন হামলার শিকার হয়ে পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, এর আগে ইলিয়াসের চাচা ইসহাক মোল্লার ওপর হামলা চালিয়ে তার ডান পা কেটে নেওয়া হলেও আসামিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি । এমনকি মামলার মূল আসামিদের নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন তারা। এ কারণে পরবর্তী সময়ে আরো একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি পরিবারের।

গতকাল বুধবার সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন নিহত ইলিয়াস মোল্লার স্ত্রী লিপি বেগম। এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যদের পাশাপাশি হামলায় পা হারানো ইসহাক মোল্লাও উপস্থিত ছিলেন। তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

লিপি বেগম বলেন, সিরাজদিখান উপজেলার কোলা ইউনিয়নের পূর্ব কোলাগ্রামে জমিজমা নিয়ে তার চাচা- শ্বশুর ইসহাক মোল্লার সঙ্গে স্থানীয় সিদ্দিক মোল্লা, তার স্ত্রী রওশন আরা এবং তাদের দুই ছেলে বিপ্লব মোল্লা ও বিদ্যুৎ মোল্লার বিরোধ চলে আসছিল। তার অভিযোগ, ঐ বিরোধের জেরে ২০২৫ সালের ৮ মার্চ রমজান মাসে ইসহাক মোল্লার ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তার ডান পা কুপিয়ে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় । দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় । এতে তিনি স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে যান।

লিপি বেগম আরো অভিযোগ করেন, ইসহাক মোল্লার করা মামলায় অভিযুক্তদের কাউকেই একদিনের জন্যও গ্রেফতার করা হয়নি। পরে অর্থের বিনিময়ে মামলার চার্জশিট থেকে মূল আসামিদের নাম বাদ দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন । লিপি বেগমের ভাষ্য, গত ১৯ জুন শুক্রবার ইলিয়াস তার পঙ্গু চাচা ইসহাক মোল্লাকে হুইলচেয়ারে করে রাস্তায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় একটি অটোতে করে এসে সিদ্দিক মোল্লা, রওশন আরা, বিপ্লব মোল্লা ও বিদ্যুৎ মোল্লা তাদের ওপর হামলা চালান। তারা রামদা দিয়ে ইলিয়াসকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। এতে তার হাতের রগ কেটে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।

হামলাকারীরা হুইলচেয়ারে থাকা ইসহাক মোল্লার ওপরও হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন লিপি । এতে তার ডান হাতের দুটি আঙুল কেটে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ইলিয়াসকে হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জুন তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সিরাজদিখান থানায় হত্যা মামলা করেন লিপি বেগম। পরে মামলার আসামি বিপ্লব মোল্লা, বিদ্যুৎ মোল্লা, সিদ্দিক মোল্লা ও রওশন আরাকে গ্রেফতার করা হয়। পরিবারের দাবি, গ্রেফতার আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

ইত্তেফাক/এনএন