ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্বচ্ছতা আনতে বহুল আলোচিত বিশেষায়িত ইলেকট্রনিক হিসাবযন্ত্র (ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস বা ইএফডি) ক্রয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট বিভাগ। প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার ইএফডি ক্রয়ের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এসব ইএফডি মেশিন পাওয়া যাবে এবং তা নির্ধারিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে স্থাপন করা হবে। পর্যায়ক্রমে আরো ৯০ হাজার ইএফডি মেশিন পাওয়া যাবে। শুরুতে ১ লাখ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এ হিসাবযন্ত্র স্থাপনের লক্ষ্য রয়েছে এনবিআরের।
আগে ১১ ধরনের ব্যবসায়ে ইসিআর (ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্ট্রার) মেশিন ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হলেও ঐ উদ্যোগে তেমন সাফল্য মেলেনি। এবার আরো বিস্তৃত পরিসরে ইএফডি মেশিন বসানো হচ্ছে। বিক্রির তথ্য ইএফডিতে সংরক্ষণ করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনবিআরে রক্ষিত কেন্দ্রীয় সার্ভারে সংযুক্ত হবে। ফলে বিক্রীত পণ্যের ভ্যাট এনবিআর জানতে পারবে। ইএফডিতে বিক্রির তথ্য দেওয়ার পর ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন এনবিআরের ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তারা। বাজেটে ২৫টি খাতের ব্যবসায়ে ইএফডি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বাজেটে ২৫ ধরনের ব্যবসায়ে ইএফডি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যে ২৫ ধরনের ব্যবসায়ে ইএফডি ব্যবহার বাধ্যতামূলক সেগুলো হলো আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ফাস্টফুডের দোকান, ডেকোরেটর ও ক্যাটারিং সেবা প্রদানকারী, মোটরগাড়ির গ্যারেজ, ওয়ার্কশপ, ডকইয়ার্ড, বিজ্ঞাপনী সংস্থা, ছাপাখানা ও বাঁধাই সংস্থা, কমিউনিটিসেন্টার, মিষ্টির দোকান, স্বর্ণকার, রৌপ্যকার এবং স্বর্ণ পাকাকারী, আসবাবপত্রের বিক্রয়কেন্দ্র, কুরিয়ার ও এক্সপ্রেস মেইল সার্ভিস, বিউটি পার্লার, হেলথ ক্লাব ও ফিটনেস সেন্টার, কোচিং সেন্টার, সামাজিক ও খেলাধুলাবিষয়ক ক্লাব, গার্মেন্টস পণ্য বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান, ইলেকট্রনিক বা ইলেকট্রিক্যাল গৃহস্থালি সামগ্রীর বিক্রয়কেন্দ্র, শপিং সেন্টার, শপিংমল, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, জেনারেল স্টোর, সুপারশপ, অন্যান্য বড়ো ও মাঝারি ব্যবসায়প্রতিষ্ঠান, যান্ত্রিক লন্ড্রি, সিনেমা হল, সিকিউরিটি সার্ভিস। এর বাইরে এনবিআরের কমিশনার কর্তৃক যে কোনো প্রতিষ্ঠান এর আওতায় আসবে।