প্রকৃত আসামি প্রবাসে, নামে মিল থাকায় জলিল হাওলাদার ২০ দিন কারাগারে

পটুয়াখালীতে মামলার আসামি না হয়েও ২০ দিন কারাগারে ছিলেন মো. জলিল হাওলাদার নামের এক ব্যক্তি। মামলার প্রকৃত আসামি ও গ্রেপ্তার হওয়া জলিলের নাম ও বাবার নাম একই হওয়ায় পরিচয় যাচাইয়ে ভুল করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) একই আদালত থেকে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

ভুক্তভোগী মো. জলিল হাওলাদারের বাড়ি কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার বিপিনপুর শিববাড়িয়া গ্রামে। তিনি ওই এলাকার মালেক হাওলাদার ও হালিমা খাতুনের ছেলে। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার বয়স ৪৭ বছর। তিনি পেশায় একজন জেলে।

জলিল হাওলাদারের আইনজীবী হুমায়ুন কবীর (বাদশা) বলেন, ‘মামলার প্রকৃত আসামি প্রবাসে থাকেন। কিন্তু নাম ও পরিচয়ে সাদৃশ্য থাকায় পুলিশ আমার মক্কেলকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার আদালতে বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে জলিলকে জামিন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আগামী ধার্য তারিখে আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি জানান, কারাগারে জামিনের নথি পৌঁছানোর পর বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে জলিল হাওলাদার মুক্তি পেয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, আসামি গ্রেপ্তারের আগে নামের পাশাপাশি বাবার নাম, মায়ের নাম, ঠিকানা ও অন্যান্য পরিচয় সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন। এতে নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি ও কারাভোগের মতো ঘটনা এড়ানো সম্ভব।

মহিপুর থানার ওসি মো. শামীম হাওলাদার বলেন, প্রকৃত আসামির নাম, বাবার নাম একই হওয়ায় ভুলে আটক করা হয়েছে। তবে ওখানে মায়ের নাম ও মোবাইল নম্বর না থাকায় এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। এজন্য পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর তার জামিন পাওয়ার বিষয়ে আইনজীবী নিয়োগসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হয়েছে।’

ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী গত ১৯ আগস্ট দুপুরে কলাপাড়া উপজেলার শিববাড়িয়া এলাকা থেকে মো. জলিল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেন মহিপুর থানা-পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শহিদুল ইসলাম। পরে একই দিন তাকে কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জলিলের জামাতা জাহাঙ্গীর আলম জানান, তার শ্বশুর একজন সাধারণ জেলে। প্রকৃত আসামির সঙ্গে নাম ও বাবার নাম মিলে যাওয়ায় তাকে ভুলভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মায়ের নাম ও গ্রামের নাম যাচাই করা হলে এ ভুল হতো না।

স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মামলার প্রকৃত আসামি জলিল হাওলাদারের বাড়িও একই এলাকায়। তিনি ওই এলাকার আবদুল মালেক হাওলাদারের ছেলে। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার মায়ের নাম মাজেদা বেগম এবং বয়স ৩৫ বছর।

প্রকৃত আসামি জলিল হাওলাদারের বাবা আবদুল মালেক হাওলাদার জানান, তার ছোট ছেলে জলিল হাওলাদার ২০২৩ সালের দিকে সৌদি আরবে যান। এরপর আর দেশে ফেরেননি। তার ছেলের পরিবর্তে পুলিশ অন্য একজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি তিনি মহিপুর থানা-পুলিশের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন।

মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৩ টাকা পাওনা আদায়ের দাবিতে মো. জলিল হাওলাদারের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে পটুয়াখালী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন ব্যবসায়ী মো. আলমগীর হোসেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, পাওনা পরিশোধের জন্য দেওয়া একটি চেক ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে ব্যাংক থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়।

পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৩ জানুয়ারি আসামি জলিল হাওলাদারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর একই বছরের ৮ মে তাঁর সম্পদ জব্দ করার আদেশ দেওয়া হয়।