বড়ো গরুর বড়াই!

আল কুরআনের শিক্ষা অনুযায়ী কুরবানির গরু নির্বাচনের মানদণ্ড—মধ্যম বয়সী হওয়া, হলুদ উজ্জ্বল গাঢ় বর্ণের হওয়া, আকর্ষণীয় ও দর্শকনন্দিত হওয়া, পরিশ্রমক্লান্ত না হওয়া এবং সুস্থ ও নিখুঁত হওয়া। মোটাতাজাকরণ নিছক মৌসুমি ব্যবসায়। লোভের মোহে ‘বোবাপ্রাণী’কে কষ্ট দেওয়া বা মৃত্যুঝুঁকিতে ঠেলে দেওয়া ধর্মীয় দৃষ্টিতে বর্জনীয়। মোটাতাজা করা বড়ো গরু স্ট্রোকে মারা যেতে পারে। ঢাকার গাবতলির হাটে ত্রিশ মন ওজনের ‘টাইগার’ নামের গরু মুহূর্তে মারা গেলে, ব্যাপারী আক্ষেপ করেছেন: গরুটির দাম উঠেছিল পাঁচ লাখ টাকা...! স্বল্প সময়ে ত্রিশ-চল্লিশ মন ওজনের গরু বানানোর নেপথ্য রহস্য কী? চর্বিবহুল বড়ো গরুর গোশত স্বাস্থ্যঝুঁকি/স্থূলতার শঙ্কা, লোকদেখানোর উপায় ও অপচয়ের বাহন। একটি গরু সাতজনের পক্ষ থেকে কুরবানির বিধান, বাহুল্য ব্যয় পরিহারের শিক্ষা দেয়। গরু বড়ো হতে হবে—তা নিয়ে বড়াই, প্রতিযোগিতা অনৈতিক। কুরবানির মাধ্যমে সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় হয়: ‘তা হতে তোমরা নিজেরা খাও এবং ধৈর্যশীল, অভাবী ও মুখাপেক্ষীদের খেতে দাও...আল্লাহর কাছে না তাদের গোশত পৌঁছে না তাদের রক্ত, বরং পৌঁছে  তোমাদের  ধার্মিকতা’  (হজ : ৩৬, ৩৭)। মুসলিম শরিফে আছে—‘আল্লাহ্ দেখেন না তোমাদের চেহারার সৌন্দর্য ও অর্থের প্রাচুর্য, দেখেন তোমাদের অন্তর ও কর্ম।’

মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ

সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, কাপাসিয়া, গাজীপুর