দোকানের সামনে বসা নিয়ে কোন্দল, দুই কিশোরকে ছুরিকাঘাত

সাভারের আশুলিয়ায় দোকানের সামনে বসাকে কেন্দ্র করে দুই কিশোরকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের প্রথমে নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুরের লালপাহাড় এলাকায় আতিকের চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।

আহত দুই কিশোর হলো—মুত্তাকিন (১৪) ও মজিদুল ইসলাম (১৩)। মুত্তাকিন রংপুর জেলার কোতয়ালী থানার সিলমন গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে এবং মজিদুল একই জেলার গঙ্গাচড়া থানার জয়দেব পূর্বপাড়া গ্রামের শাহাজানের ছেলে। তারা লালপাহাড় এলাকায় ভাড়া থেকে আশুলিয়ার জিরাবো পুকুরপাড় এলাকার একটি কার্টুন কারখানায় কাজ করত।

আহতদের স্বজনদের অভিযোগ, স্থানীয় জাহাঙ্গীরের ছেলে জীম ও তার ভাগিনা ছোয়াত প্রথমে দোকানের সামনে বসাকে কেন্দ্র করে ওই দুই কিশোরকে মারধর করে। মারধরের হাত থেকে বাঁচতে তারা আতিকের চায়ের দোকানে আশ্রয় নেয়। পরে অভিযুক্তরা দোকানের ভেতরে ঢুকে তাদের ছুরিকাঘাত করে। এতে দুজনই গুরুতর আহত হয়। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

আহত মুত্তাকিনের বাবা মতিয়ার রহমান বলেন, রাইস মিলের মালিক শামীমের দোকানের সামনে বসাকে কেন্দ্র করে প্রথমে তার ছেলে ও মজিদুলকে মারধর করা হয়। পরে তারা আতিকের দোকানের সামনে এলে সেখানেও তাদের মারধর করা হয়। চায়ের দোকানদার তাদের দোকানের ভেতরে আশ্রয় দিলে জীম ও ছোয়াত সেখানে ঢুকে চাকু দিয়ে আঘাত করে।

তিনি বলেন, গুরুতর আহত হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

চায়ের দোকানদার আতিক বলেন, মারধরের হাত থেকে বাঁচাতে তিনি দুই কিশোরকে দোকানের ভেতরে আশ্রয় দিয়েছিলেন। পরে অভিযুক্তরা জোর করে দোকানে ঢুকে তাদের ছুরিকাঘাত করে বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফুল আলম বলেন, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ভাড়াটিয়া ও স্থানীয় উঠতি বয়সী কয়েকজনের দোকানের সামনে বসাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।