গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের একা ডেকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শের চেষ্টা ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেছেন। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করে ক্লাসে ফিরে যান।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সহকারী শিক্ষক ফারুকুজ্জামান ফারুককে বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সেলিম তালুকদার।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে অভিযোগের বিষয়টি জানাজানি হলে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা বিদ্যালয়ে জড়ো হন। তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দিদারুল আলম ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম তালুকদার সেখানে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হলে বিক্ষোভকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বিদ্যালয় চলাকালে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে ওই শিক্ষক কুরুচিপূর্ণ কথা ও কুপ্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ছাত্রীর মা বিষয়টি বিদ্যালয়ের অভিভাবক সমাবেশে মৌখিকভাবে জানান। অভিযোগের পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এমন অভিযোগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
এক ভুক্তভোগী ছাত্রী অভিযোগ করে, শিক্ষক তাকে বয়ঃসন্ধিকাল নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন এবং শরীরের পালস মাপার কথা বলে বোরকা খুলতে বলেন। বিষয়টি একাধিকবার প্রধান শিক্ষককে জানানো হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তার দাবি।
শিক্ষার্থী জ্যোতি সরকার অভিযোগ করেন, ফারুকুজ্জামান বিভিন্ন সময় ছাত্রীদের আলাদাভাবে ডেকে ব্যক্তিগত ও অশালীন মন্তব্য করতেন। কয়েকজন শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে শরীরের বিভিন্ন অংশ নিয়ে মন্তব্য, অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শের চেষ্টা এবং একা দেখা করতে বলার অভিযোগ করেছেন।
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারিয়া অভিযোগ করে, শিক্ষক তাকে ব্যক্তিগতভাবে ডেকে ‘সোনা ময়না পাখি’ বলে সম্বোধন করতেন এবং তার পোশাক ও ঠোঁট নিয়ে মন্তব্য করতেন। আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে, ফলাফলসংক্রান্ত বিষয় দেখানোর কথা বলে তাকে একা ডেকে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ কথা বলা হয়েছে।
আরেক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, শিক্ষক ছাত্রীদের শরীরের বিভিন্ন অংশ নিয়ে মন্তব্য করতেন এবং একা ডেকে অস্বস্তিকর কথা বলতেন। এসব বিষয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জানানো হলেও প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অভিযুক্ত শিক্ষক ফারুকুজ্জামান ফারুকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সেলিম তালুকদার বলেন, অভিযোগের বিষয়টি জানার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় শিক্ষককে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কমিটি প্রতিবেদন দেবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত চলাকালে গুজব বা উত্তেজনা না ছড়িয়ে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদানে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

