ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে আগামী শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, রুশ তেল আমদানি, পরমাণু শক্তি, বাণিজ্য এবং ইউক্রেন যুদ্ধসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে প্রতিরক্ষা খাত। রাশিয়া ইতোমধ্যে জানিয়েছে, ভারতকে আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি সরবরাহে তারা প্রস্তুত। এ ক্ষেত্রে রাশিয়ার পঞ্চম প্রজন্মের এসইউ-৫৭ যুদ্ধবিমান নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারতীয় সামরিক বাহিনীতে দীর্ঘদিন ধরে রুশ যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এসইউ-৫৭ নিয়ে আলোচনা হলে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে।
পরমাণু শক্তি খাতও বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। ভারতে নতুন পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে রাশিয়া আগ্রহী। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে যৌথ উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণের বিষয়েও দুই পক্ষ আলোচনা করতে পারে।
মোদি-পুতিন বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা হতে পারে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সত্ত্বেও ভারত রাশিয়া থেকে বড় পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কিনছে। জুলাই মাসে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি দৈনিক প্রায় ২৮ লাখ ২০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছেছিল, যা দেশের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৫৫ দশমিক ৯ শতাংশ। আগস্টে এই পরিমাণ কমে দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেলে নেমে এলেও রাশিয়া এখনো ভারতের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহকারী হিসেবে রয়ে গেছে।
তেল বাণিজ্যের অর্থ পরিশোধ নিয়েও আলোচনা হতে পারে। দুই দেশ নিজস্ব মুদ্রায় লেনদেনের ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। রুশ ব্যাংকিং সূত্রের দাবি, দুই দেশের বাণিজ্যের প্রায় ৯৬ শতাংশ এখন রুবল ও রুপিতে নিষ্পত্তি হচ্ছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে। ভারত সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিলেও রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক অটুট রেখেছে। ফলে যুদ্ধের সমাধান, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং ভবিষ্যৎ শান্তি আলোচনা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে মতবিনিময় হতে পারে।
পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতও আলোচনায় আসতে পারে। হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। বিশ্বের অন্যতম বড় জ্বালানি আমদানিকারক হিসেবে ভারতের জন্য তেলের দাম বৃদ্ধি আমদানি ব্যয়, রুপির মূল্য এবং বৈদেশিক লেনদেনে চাপ বাড়াতে পারে। এ কারণে রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা ভারতের জন্য শুধু কূটনৈতিক বিষয় নয়, অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি জড়িত।