নোয়াখালীতে গৃহবধূকে ফুটন্ত গরম পানি ঢেলে ঝলসে দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় ছাগলে শিমগাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে কুলছুমা (৩০) নামে এক নারীকে ফুটন্ত গরম পানি মেরে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত কুলছুমা বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় তার সৎ ছেলের স্ত্রী ও নাতি বৌকে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গ্রেপ্তার করেছে চরজব্বার থানার পুলিশ।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর)  সকালে ভুক্তভোগী ওই নারীর বাবা মো. জামসেদ বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এর আগে রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

গ্রেপ্তাররা হলেন- নাজমা ও আকলিমা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,  প্রথম স্ত্রীর মৃত্যু পর আব্দুল গনি কুলছুমাকে বিয়ে করেন। গনির আগের সংসারের ছেলে সাইফুলের একটি ছাগল কয়েকদিন আগে কুলছুমার রোপণ করা একটি শিমগাছ খেয়ে ফেলে। এ নিয়ে কুলছুমা প্রতিবাদ করলে সাইফুল ও তার বোনদের সঙ্গে তার ঝগড়া বাধে। ঝগড়ার একপর্যায়ে সৎ ছেলে সাইফুল ও তার বোনেরা মিলে কুলছুমার শরীরে ফুটন্ত গরম পানি ঢেলে দেয়। এতে তার পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ঝলসে যায়। ঘটনার পর অভিযুক্তরা বিষয়টি কৌশলে পুলিশ বা স্থানীয় কাউকে না জানিয়ে গোপন রাখার চেষ্টা করেন। অভিযুক্তরা গোপনে চিকিৎসা করানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে ৫ হাজার টাকা দেয় এবং পরে আরও ২০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঘটনাটি চেপে যেতে বলে। কিন্তু প্রতিশ্রুত টাকা না দেওয়ায় এবং কুলছুমার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ঘটনাটি জানাজানি হয়।

চরজব্বার থানার ওসি রফিকুল হাসান বলেন, ঘটনার কয়েকদিন পার হলেও বিষয়টি পুলিশকে না জানিয়ে গোপন রাখা হয়েছিল। খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে নাজমা ও আকলিমা নামে দুই অভিযুক্ত নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নারীর বাবা ৬ জনকে এজহারভুক্ত আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। বুধবার দুপুরে গ্রেপ্তার দুইজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।