যাদুকাটা নদী থেকে কয়লা তোলার হিড়িক

সুনামগঞ্জ জেলার ভারত মেঘালয় রাজ্যের সীমান্ত লাগোয়া একটি জনপদের নাম তাহিরপুর। এ জনপদের হাজার হাজার মানুষের প্রধান জীবিকা হলো কয়লা কুড়ানো। তারা যাদুকাটা নদীর স্রোতধারায় বালির সঙ্গে মিশে থাকা কয়লা কুড়িয়ে তা বিক্রি করে বেঁচে আছেন।

প্রতি বছর বর্ষায় ভারত থেকে প্রবাহিত স্রোতধারায় বালির সঙ্গে মিশে থাকা কয়লা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। ভারতীয় পাহাড় ধসে নুড়ি বালির সঙ্গে মিশে থাকা কয়লা নদীর স্বচ্ছ পানিতে দেখা যায়। এসব কয়লা শ্রমজীবী নারীরা ঠেলা জালিতে তুলে ও পানিতে ছেঁকে বালি থেকে আলাদা করে বস্তা ভরে রাখে। প্রতি বস্তা কয়লা সাড়ে ৩০০/৪০০ টাকা দরে বিক্রি করে স্থানীয় কয়লা মহাজনদের কাছে। ২৮ বিজিবি সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়ন নিয়ন্ত্রিত লাউড়েরগড় বিওপি ক্যাম্প ও গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত যাদুকাটা নদীতে তাহিরপুরসহ পার্শ্ববর্তী জামালগঞ্জ ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কমপক্ষে ১০ হাজার শ্রমিক প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়লা কুড়ানোর কাজ করে।

যে সব হতদরিদ্র শ্রমজীবী নারী কাজের অভাবে আহার জুটাতে পারত না, আজ তাদের অনেকেই স্বাবলম্বী। মানিগাঁও গ্রামের জরিনা, লাউড়েরগড়ের কুলসুমা, রাবেয়া, মাহারামের সোনাবান, রাজাই গ্রামের তরী হাজংয়ের মতো অনেক শ্রমজীবী নারী কয়লা কুড়িয়ে সংসারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন। অনেক শ্রমজীবী পরিবারের ছেলেমেয়েরা এখন স্কুল-কলেজে লেখাপড়া করছে।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার স্বরূপগঞ্জ গ্রামের কয়লাশ্রমিক জান্নাত আরা বলেন, আমি ও আমার দুই ছেলে মিলে ছয় মাস কয়লা তুলে বিক্রি করে ৩ লাখ টাকা রোজগার করেছি। সেই টাকায় দুই ছেলের বিয়ে, টিনের ঘর নির্মাণসহ গরু-ছাগল কিনে সুখে আছি। জান্নাত আরার মতো সীমান্তবর্তী হাজার হাজার শ্রমজীবী পরিবার প্রকৃতির করুণায় বদলে ফেলেছে তাদের জীবনমান। সুখে ও স্বাচ্ছন্দ্যে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

স্থানীয় বাদাঘাট ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও যাদুকাটা বালুপাথর সমিতির সভাপতি নিজাম উদ্দিন বলেন, বালির সঙ্গে মিশে থাকা কয়লা তুলে হাজার শ্রমিক বেঁচে আছে। 

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ু্ল চৌধুরী বাবুল  বলেন, যাদুকাটা নদী স্রোতে বালি সঙ্গে মিশে থাকা কয়লা ঠেলা জালিতে ছেঁকে প্রক্রিয়া করে আলাদা করে বস্তায় ভরে মহাজনদের কাছে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করা একটি অদ্ভুত ও কঠিন কাজ বটে। এসব শ্রমজীবী মানুষের পাশে আমার পরিষদের সক্রিয় সহযোগিতা থাকবে।