অপ্রতুল বরাদ্দ, অস্বাস্থ্যকর শৌচাগার, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাস, শিশুদের পাঠদানে অবহেলা, বিশুদ্ধ পানীয়জলের সংকট, পয়ঃনিষ্কাশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকাসহ নানা সংকটে দেবিদ্বার সরকারি শিশু পরিবারের প্রায় অর্ধশত এতিম শিশুর ভবিষ্যত্ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার গুনাইঘর মৌজায় ৩ একর জায়গায় ১৯৯৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তত্কালীন সরকারের সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটল ১০০ শয্যের এ শিশু পরিবারটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। স্থাপনের পর থেকে অনেক শিশু থাকলেও দিন দিন বিভিন্ন কারণে কমতে থাকে শিশুর সংখ্যা। বর্তমানে ৬৯জন এতিম শিশু বসবাস করছে ঐ শিশু পরিবারে।
গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চারতলা বিশিষ্ট ভবনটির ১৬টি কক্ষের চারপাশের প্রায় ১৫০ জানালার একটি গ্লাসও আর অবশিষ্ট নেই। মরিচায় নষ্ট হয়ে পড়েছে গ্রিলও। খসে পড়েছে ছাদের পলেস্তারা। দেওয়ালে বড়ো বড়ো ফাটল, অল্প ঘষাতেই প্লাস্টার খসে পড়ছে। সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামার সময় পুরো ভবনই কাঁপুনি দেয়। এতে ভয়ে আতঙ্কে থাকে শিশুরা। প্রতিটি কক্ষের দরজা, বেড ও চেয়ার-টেবিল ভাঙা। শীতের সময় কনকনে ঠাণ্ডা হাওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশুরা। কোমলমতি এসব শিশুর জন্য বৃষ্টির দিনগুলো আরো ভয়াবহ। ভাঙা দরজা-জানালা দিয়ে বৃষ্টির পানিতে একাকার হয়ে যায় প্রতিটি কক্ষ। ভবনের পাশে বর্জ্য ও ময়লা পানি নিষ্কাশনের নেই কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা। দীর্ঘদিনের ময়লা পানি ও বর্জ্য জমে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি বাড়ছে মশা-মাছির উপদ্রব এবং রোগজীবাণু। শৌচাগারে যাওয়ার পথে মেঝেতে নোংরা পানি বারো মাস জমে থাকে। পুকুরের উত্তর পাশে পল্লী বিদ্যুতের দুটি খুঁটিই বিপজ্জনকভাবে হেলে আছে। শিশু পরিবারের কর্মচারীরা হেলেপড়া খুঁটির গোড়ায় টিন ও মাটি দিয়ে কোনো রকম আটকিয়ে রেখেছে। তীব্র বাতাসে যে কোনো সময় খুঁটি দুটি পানিতে পড়ে ঘটতে পারে বড়ো বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা। অথচ এ ব্যাপারে নির্বিকার সংশ্লিষ্টরা।
দেবিদ্বারের এ শিশু পরিবারে নেই কোনো পাঠাগার, বিজ্ঞানাগার, নেই পর্যাপ্ত খেলার সরঞ্জাম, কম্পিউটার ল্যাব। এতে পিছিয়ে পড়ছে কোমলমতি শিশুরা।
শিশুরা অভিযোগ করে বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে সব সময়ই আতঙ্কে থাকতে হয়। ঝড় বৃষ্টিতে বা তীব্র বাতাসে ভবনটি কাঁপুনি দেয়। শিশুরা আরো জানান, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার রান্না ও বিতরণ করা হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী খাবারের মেনু ঠিক রাখা হয় না। রান্নার চাল, ডাল ও তরকারি ধোঁয়া এবং কিচেন পরিষ্কার/পরিচ্ছন্নতার কাজ করানো হয় আমাদের দিয়ে। লেখাপড়া করানোর জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষক থাকলেও তারা প্রায় সময়ই থাকেন অনুপস্থিত।
অন্যদিকে, শিশু পরিবারের উত্তর পাশে উপতত্ত্বাবধায়ক, সহকারী তত্ত্বাবধায়ক ও স্বাস্থ্য সহকারীর দুইতলা ও একতলা বিশিষ্ট দুটি বাসভবন দীর্ঘদিন পড়ে আছে বেহাল অবস্থায়। ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় রাতে কেউ থাকেন না বাসভবন দুটিতে। এছাড়া শিশু পরিবারের মূল ফটকের সামনের সড়কে নেই কোনো স্পিড ব্রেকার। দ্রুতগতির যানবাহনে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড়ো কোনো দুর্ঘটনা।
দেবিদ্বার সরকারি শিশু পরিবারের উপতত্ত্বাবধায়ক মাসুদুর রহমান জানান, আমি আজই যোগদান করেছি। তবে শুনেছি নতুন ভবনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আর ভিতরের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত নিরসন করার ব্যবস্থা করা হবে।