প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত নেপালের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে মাস্তুল ফাউন্ডেশন। নেপালের আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জরুরি প্রয়োজন পূরণে দেশটিতে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
মানবতার সেবায় দেশের সীমানা পেরিয়ে কাজ করার ধারাবাহিকতায় চতুর্থবারের মতো আন্তর্জাতিকভাবে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে মাস্তুল ফাউন্ডেশন। এর আগে গাজা, সুদান ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দুর্যোগ ও সংকটকবলিত অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
নেপালের সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যায় অসংখ্য মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। অনেক পরিবার হারিয়েছে তাদের ঘরবাড়ি, জীবিকা ও প্রয়োজনীয় নিত্যসামগ্রী। দুর্গত মানুষদের অনেকেই বর্তমানে খাদ্য, নিরাপদ পানি, প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদার সংকটে রয়েছেন। অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে দিন কাটছে অসংখ্য পরিবারের।
এই সংকটময় সময়ে নেপালের দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজন সম্মিলিত মানবিক উদ্যোগ। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই মাস্তুল ফাউন্ডেশন নেপালে সরাসরি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
মাস্তুল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক কাজী রিয়াজ রহমান বলেন, “মানুষের দুর্দশার কোনো সীমান্ত নেই, মানবতারও কোনো সীমান্ত নেই। নেপালের মানুষ আজ একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব। মাস্তুল ফাউন্ডেশন তার সামর্থ্য অনুযায়ী দুর্গত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা চাই, দেশের মানুষও এই মানবিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হোক।”
মাস্তুল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নেপালের দুর্গত মানুষের জন্য খাদ্য, প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী, নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা সামগ্রীসহ জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি ও প্রয়োজন বিবেচনায় সহায়তার পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
মাস্তুল ফাউন্ডেশন বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরো কর্তৃক নিবন্ধিত একটি অলাভজনক, অরাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী মানবিক সংস্থা। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি সুবিধাবঞ্চিত মানুষ ও শিশুদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে করোনা মহামারিতে মরদেহ দাফন সেবা, ২০২২, ২০২৪ ও ২০২৬ সালের বন্যায় ত্রাণ বিতরণ, দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ, ‘যাকাত স্বাবলম্বী’ প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, টিউবওয়েল স্থাপন, মসজিদ পুনর্নির্মাণ এবং ‘মেহমানখানা’ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিদিন রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে খাবার বিতরণ।
এছাড়া তুরস্কের ভূমিকম্প, গাজা ও সুদানের মানবিক সংকটেও আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে মাস্তুল ফাউন্ডেশন। ঢাকার হাজারীবাগে প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব মাদ্রাসা, সেল্টার হোম ও এতিমখানা পরিচালনা করছে।
উল্লেখ্য, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী, মাস্তুল ফাউন্ডেশনকে প্রদান করা দান, যাকাত ও সাদাকার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কর-সুবিধা দাতাদের জন্য আয়কর রেয়াত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। গেজেট: mastul.net/gov-tax-rebate